কেন জনসমক্ষে আসছেন না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা?

আমেরিকান-ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে গত আট মাস ধরে জনসমক্ষে দেখা যায়নি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে নানামুখী জল্পনা-কল্পনা তৈরি হলেও, জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি নিশ্চিত করেছেন যে মোজতবা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং আড়াল থেকেই রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইল হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই একই হামলায় আহত হলেও বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি, যাকে পরবর্তীতে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি শুধু লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করছেন, কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচিতে উপস্থিত হননি। এমনকি জুলাই মাসে সম্পন্ন হওয়া তাঁর বাবার শেষকৃত্যেও তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

তবে এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিনিধি আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি অত্যন্ত সুস্থ আছেন এবং দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত সপ্তাহেই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টানা সাত ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। স্পিকারও জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে একাধিকবার খামেনির সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে ইরানের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছেন।

কূটনীতিক আরও জানান, বাবার জানাজায় মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতির যে খবর রটেছে তা সত্যি নয়। নিরাপত্তার কঠোর কড়াকড়ির কারণে সংবাদমাধ্যম তাঁকে দেখতে পায়নি, তবে তিনি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। এমনকি কিছু রাতে তিনি নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের মিছিলেও অংশ নিয়েছেন বলে জানান এই কূটনীতিক।

ইরানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত গুপ্তহত্যার ভয় এবং হামলায় মুখমণ্ডলে লাগা আঘাতের কারণে মোজতবা কৌশলগত কারণে আত্মগোপনে থেকে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। তবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, সামরিক নির্দেশনা ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদন তাঁর মাধ্যমেই অনুমোদিত হচ্ছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে ইরান কে চালাচ্ছে তা কারও জানা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই দাবির কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইরানের শাসনকাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং মার্কিন কর্মকর্তারা তা খুব ভালোভাবেই জানেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি