সময় যত যাচ্ছে মৃত্যু মিছিল ততই বড় হচ্ছে মরক্কোতে। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও ৩২৯ জন জন আহত হয়েছেন বলে মরক্কোর রাষ্ট্রীয় টিভি আল আওলার বরাতে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মরক্কোয় আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
রিকটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। আর এর গভীরতা ছিল ১৮ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল মারাকেশ শহর থেকে প্রায় ৭২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আটলাস পর্বতমালায়। প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষের বসবাসের এই শহরটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।
ভূমিকম্পের আঘাত স্পেন ও পর্তুগালেও অনুভূত হয়েছে।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আল-হাউজ, মারাকেশ, কোয়ারজাজাতে, আজিলাল, চিচাওয়া ও টারোডেন্ট এলাকায় ভূমিকম্পে এই প্রাণহানি হয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যু সবচেয়ে হয়েছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। উদ্ধারকারীদের সেখানে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
মারাকেশের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটন এই নগরটিতেই সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে সেখানকার অসংখ্য বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অসংখ্য মানুষ।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, ১২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে উত্তর আফ্রিকার এই অংশে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি।
বারো শতকের শতকের গোঁড়ার দিকে প্রথম স্থাপিত মারাকেশের ঐতিহাসিক দেয়াল ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দেয়াল প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীর হিসেবে সে সময় নির্মাণ করা হয়েছিল।
কয়েক দফায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে মারাকেশ ছাড়াও রাবাত শহরের বেশিরভাগ বাড়িঘর ও স্থাপনা ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই বছরের শুরুতে তুরস্কে আঘাত করা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় মরক্কোর ভূমিকম্পটি ৩০ গুণ দুর্বল ছিল বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তারপরও এ ভূমিকম্পটি ‘অসাধারণ পরিমাণে শক্তি’ শক্তি ছেড়েছে এবং যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মরক্কো সরকারকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিজেদের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ।
‘ভয়ানক’ ভূমিকম্পের পর ‘বন্ধুত্বপূর্ণ মরক্কোর জনগণ’-এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এবং তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্স।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে জি-২০ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় মরক্কোর মারাত্মক ভূমিকম্পে আক্রান্ত সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।