পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকার দেশে মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছে এবং একই সঙ্গে সারা দেশে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে একটি নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদিত হয়, যার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও গোয়েন্দাগিরির মতো মারাত্মক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পার্লামেন্টের ৭১ জন আইনপ্রণেতার সবাই এই বিলের পক্ষে ভোট দেন। এর মাধ্যমে ২০১৮ সালে বিলুপ্ত হওয়া মৃত্যুদণ্ডের আইনটি আবারও কার্যকর হলো। উল্লেখ্য, বুর্কিনা ফাসোয় সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কোনো অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
দেশটির বিচারমন্ত্রী এদাসো রদ্রিগ বায়ালা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে জানান, দেশে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে কঠোর শাস্তির বিধান অত্যন্ত জরুরি ছিল।
মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইব্রাহিম ট্রাওরের সরকার। ২০২৬ সালের ৮ জুন দেশটির সংস্কৃতি, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী সব সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ সময় নতুন করে কোনো সুন্দরী প্রতিযোগিতার অনুমোদন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে গ্ল্যামার জগত থেকে নজর সরিয়ে নারীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। আগস্ট মাসে 'হাকিলি মুসো' নামের একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল তরুণীদের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা। ৮৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয় এবং রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে নিজে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ার আহ্বান জানান।
সামরিক সরকারের এসব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। 'হিউম্যান রাইটস ওয়াচ' ও 'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল' মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছে যে, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে।
অন্যদিকে সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; অনেকে নারীদের মেধা ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়াকে সাধুবাদ জানালেও সমালোচকদের মতে, নারীদের স্বীয় পছন্দ ও স্বাধীনতা হরণ করা অনুচিত। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ক্যাপ্টেন ট্রাওরের অধীনে বুর্কিনা ফাসোর এই পরিবর্তনগুলো দেশটির নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও নাগরিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি