ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মধ্যে অবশেষে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বৃহস্পতিবার গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ক্যাম্পাসগুলোর অস্থিরতার বিষয়ে তার নীরবতা ভেঙে বলেছেন, আমেরিকানদের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে কিন্তু সহিংসতা প্রকাশ করার নয়।
হোয়াইট হাউজে বাইডেন বলেছেন, বিক্ষোভ করার অধিকার আছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অধিকার নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অস্থিরতার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাইডেন। নিজে চুপ থেকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দায়িত্ব তার মুখপাত্রদের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান।

গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে গত কিছু দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে পুলিশ এ পর্যন্ত দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার (ইউসিএলএ) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিন সমর্থক ও ইসরাইল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের তাবু হটিয়ে দেয় এবং তাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় হোয়াইট হাউজে ভাষণ দেন বাইডেন।

বাইডেন তার ভাষণে বলেন, সহিংস প্রতিবাদের সুরক্ষা দেয়া হয় না। প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ। সম্পত্তি ধ্বংস করা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নয়। ভাংচুর, অনুপ্রবেশ, জানালা ভাঙা, ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয়া, ক্লাস এবং গ্র্যাজুয়েশন বাতিল করতে বাধ্য করা কোনটিই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নয়।

তিনি বলেন, আসলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হল সর্বোত্তম ঐতিহ্য কিন্তু আমরা কোন আইনহীন দেশ নই। শৃঙ্খলা অবশ্যই জয়ী হবে।

বাইডেন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র নয়, যে সমালোচকদের চুপ করিয়ে দেয়। কিন্তু শৃংখলা অবশ্যই গুরুত্ব পাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গণতন্ত্রের জন্য ভিন্নমত অপরিহার্য কিন্তু ভিন্নমত কখনই বিশৃঙ্খলা বা অন্যের অধিকারকে হরণ করতে পারে না। যাতে শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার এবং কলেজের ক্লাস  শেষ করতে না পারে।

শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে ন্যাশনাল গার্ড সৈন্যদের ডাকা উচিত কি না জানতে চাইলে বকাইডেন বলেন, ‘না।’

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই প্রতিবাদ তার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তন আনবে না।