এবার কানাডাতে ছড়াচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও আন্দোলন বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। আমেরিকাজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের বড় ধরনের অভিযান এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় সেই আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী কানাডাতেও সেই ঢেউ আছড়ে পড়ছে।

কানাডার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হচ্ছে। শত শত শিক্ষার্থী টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এবং অটোয়া ইউনিভার্সিটিসহ কানাডার বিদ্যালয়গুলোতে তাঁবু স্থাপন করেছে। তাদের দাবি, ইসরাইলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যাবতীয় অর্থলগ্নি বন্ধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডাউনটাউন ক্যাম্পাসের একটি খোলা স্থানে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ শুরু করে। সেখানে কয়েক ডজন তাঁবুতে জড়ো হয় প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী। এ সময় তারা দাবি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় তার বিনিয়োগ, কিছু ইসরাইলের তাদের প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে।

canada1

তারা আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দিয়ে ইসরাইলে কোন বিনিয়োগ চলবে না। ইসরাইলি বর্ণবাদ, দখলদারিত্ব এবং ফিলিস্তিনের অবৈধ বসতি স্থাপন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ইসরাইলের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব শেষ না করা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলতে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলাপ করছে কর্তৃপক্ষ এবং মধ্যাহ্ন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত সৃষ্টি করেনি তাঁবুগুলো।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তাঁবুর মুখপাত্র সারা রাসিখ বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবেন তারা।

এদিকে, কুইবেকের প্রিমিয়ার ফ্রাঁসোয়া লেগল্ট জানিয়েছেন, ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পটি ভেঙে ফেলা উচিত। কারণ বেশি বেশি শিক্ষার্থী কানাডার কয়েকটি বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী ক্যাম্প তৈরি করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে সরাতে এখনও পুলিশ হস্তক্ষেপ করেনি।

canada2

মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশি হস্তক্ষেপের অনুরোধ করলেও বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি আইন প্রয়োগকারীরা। ওইদিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধে সাড়া দেবেন।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সম্পর্কে এই বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার জায়গা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা; তবে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা কেবল নিরাপদবোধ করলেই এটি কাজ করে। এই মুহূর্তে… ইহুদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ বোধ করছে না।

canada3

উল্লেখ্য, গাজার যুদ্ধ থেকে লাভবান হওয়া ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পর্ক ছিন্নের দাবিতে ১৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরাইলপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।