আমেরিকারজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়া ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়েছে সদূর অস্ট্রেলিয়াতেও। দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
শুক্রবার, দেশটির সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নেয়, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেই সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানায়। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ইসরাইলের সাথে সম্পর্কযুক্ত সংস্থাগুলো থেকে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিচ্ছিন্ন করার দাবি তোলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মেলবোর্ন, ক্যানবেরাসহ অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের তাঁবু গড়ে উঠেছে। আমেরিকার ক্যাম্পাসগুলো থেকে পুলিশ ফিলিস্তিনিপন্থী বিক্ষোভকারীদের জোর করে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও, অস্ট্রেলিয়াতে সে ধরনের কোন এখনও ঘটনা ঘটেনি।
অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন শুরু হলেও এভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি অভিযানে পর অস্ট্রেলিয়াতে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে দেশটির বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় এই আন্দোলন শুরু হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা গত সপ্তাহে প্রধান হলের বাইরে জড়ো হয়ে তাঁবু স্থাপন করে। এছাড়া, মেলবোর্ন, ক্যানবেরা এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরগুলোতে একই ধরনের তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ করছেন শত শত ফিলিস্তিনপন্থিরা।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ এখনও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থানে যায়নি। কোন ধরনের ধরপাকড়ও হয়নি। বিক্ষোভের সময় কোন ধরনের সহিংস ঘটনাও ঘটেনি। বরং পুলিশের উপস্থিতিতেও অস্টেলিয়ার বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। বিক্ষোভকারিরা সরকার ও প্রধানমন্ত্রীবিরোধী শ্লোগানও দিচ্ছেন।

ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সাগরিকরাও সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকেই বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানাতে পরিবারের সদস্য নিয়ে বিভিন্ন ক্যম্পাসে হাজির হচ্ছেন। তাদেরই একজন ৩৯ বছরের ম্যাট বলেন, আমি আমার শিশুকে নিয়ে এসেছি, ফিলিস্তিন শিশুদেরও ওর মতো জীবন চাই।
তিনি বলেন, আমি এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছি এটা দেখাতে যে- গাজায় ইসরাইলের হামলার ফলে শুধু শিক্ষার্থীরাই ক্ষুব্ধ তা নয়। একবার আপনি অনুধাবন করুন। কি হচ্ছে এবং আপনার করণীয় কি। তখনই দেখবেন আপনি এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। সচেতনতা বাড়াচ্ছেন এবং সংহতি প্রকাশ করছেন।

শুক্রবার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের দাবিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তিনশ’রও বেশি বিক্ষোভকারী।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মার্ক স্কট বৃহস্পতিবার বলেছেন, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেয়া হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো সহিংসতা দেখা যায়নি। তিনি জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকবে, কোন গোলযোগ হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেবে না।

তবে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকশত মিটার দূরে নিরাপত্তারক্ষাকারী দিয়ে আলাদা করা আরও একটি সমাবেশ দেখা গেছে। তারা অস্ট্রেলিয়ান এবং ইসরাইলি পতাকা নিয়ে তাতে যোগ দিয়েছে। সেখান থেকে বক্তারা বলছেন, ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ ইহুদি শিক্ষার্থী এবং স্টাফদের অনিরাপদ করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, আমিরকার দেখানো পথে অস্ট্রেলিয়াও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন। তেল আবিবের প্রতি সময়ই নমনীয় আচরণের পাশাপাশি সমর্থন জানিয়ে আসছে দেশটির সরকার। তবে গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর অস্ট্রেলিয়াতে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব জোরদার হতে শুরু করেছে।
