ইরানের বিরুদ্ধে তথ্য হ্যাকের অভিযোগ ট্রাম্প শিবিরের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার কিছু অভ্যন্তরীণ তথ্য ইরানি অপারেটিভরা হ্যাক করেছে বলে ট্রাম্পের প্রচারণাশিবির অভিযোগ করেছে। ট্রাম্পের রানিংমেট জেডি ভ্যান্সের ওপর অভ্যন্তরীণ গবেষণাসহ প্রচারাভিযানের নানা তথ্য ইমেইলের মাধ্যমে তাদের হাতে আসে বলে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে।

নথিগুলি আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিকূল বিদেশী উৎস থেকে অবৈধভাবে প্রাপ্ত বলে ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন। পলিটিকো নথিগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে, বিবিসি স্বাধীনভাবে দাবির সত্যতা যাচাই করেনি। খবর বিবিসি’র। 

এদিকে, অভিযোগ করা হলেও তথ্য ফাঁসের সঙ্গে ইরানি হ্যাকার বা ইরান সরকারের জড়িত থাকার কোনও সুস্পষ্ট বিবরণ বা প্রমাণ দেয়নি ট্রাম্পের প্রচারণাশিবির।

এর আগে, গত জুন মাসে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর প্রচারণা হ্যাকিংয়ের লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে মাইক্রোসফটের থ্রেট অ্যানালাইসিস সেন্টার (এমটিএসি) এক বিবৃতিতে জানায়। ওই বিবৃতি প্রকাশের পরদিনই হ্যাকিংয়ের জন্য ইরানের দিকে আঙুল তুললো ট্রাম্পের প্রচারণাশিবির।

বিবৃতিতে এমটিএসি জানায়, লক্ষ্যবস্তু করা ক্যাম্পেইনটিকে একটি স্পিয়ার ফিশিং ইমেইল পাঠানো হয়েছিল। এটি ইমেইলে পাঠানো একটি ম্যাসেজ যা একটি সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করার মতো বিশ্বাসযোগ্য দেখায়।

ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং বলেছেন, এমটিএসি’র রিপোর্টে উল্লিখিত জুন হ্যাকিং প্রচেষ্টা ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত রানিংমেট প্রার্থীর একটি অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়’। ইরান জানে যে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে গেলে তার প্রথম চার বছরের মেয়াদের মতোই তাদের সন্ত্রাসের রাজত্ব বন্ধ করবেন। এজন্যই তারা ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পলিটিকো বলেছে, জুলাইয়ের শেষের দিকে তারা এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ইমেল পেতে শুরু করেছে যিনি একটি এওএল ইমেল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শুধুমাত্র ‘রবার্ট’ হিসাবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন।

নিউজ আউটলেটটি জানায়, ভ্যান্সের ফাইলটি ২৭১ পৃষ্ঠা দীর্ঘ এবং ভ্যান্সের অতীত রেকর্ড এবং বিবৃতি সম্পর্কে সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। ইমেল অ্যাকাউন্টটি ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিও সম্পর্কেও একটি গবেষণা নথির অংশ পাঠিয়েছে, যিনিও রানিংমেট পদের জন্য ভ্যান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

মাইক্রোসফটের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি এ ধরণের সাইবার ক্রিয়াকলাপগুলি অন্তত গত তিনটি মার্কিন নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। মাইক্রোসফট ২০২০ সালের নির্বাচনের সময়ও প্রচারাভিযানকে লক্ষ্যবস্তু করার একই রকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

মার্কিন নিরাপত্তা সূত্রগুলো ট্রাম্পকে হত্যার একটি ইরানি ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সতর্ক করেছে, যা গত মাসে পেনসিলভানিয়ায় তার ওপর গুলি চালানোর চেষ্টার সাথে সম্পর্কহীন। মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ সাবেক প্রেসিডেন্টসহ সম্ভাব্য মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্রে ইরানের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে একজন পাকিস্তানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।

এদিকে, হ্যাকিংয়ের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে জাতিসংঘে ইরানের মিশন বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কখনই তাতে হস্তক্ষেপ করে না ইরান।