ইরানকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়ে নতুন ঝুঁকিতে ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছেন, তখন তাঁর নিজ প্রশাসনের উপদেষ্টারা তাঁকে ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগের দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সামরিক উত্তেজনা ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক হারে সেনা মোতায়েন করেছেন এবং ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে কেন যুক্তরাষ্ট্রকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তিনি এখনো মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরেননি। জনমত জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেলেও ট্রাম্পের এজেন্ডায় এখন পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক শক্তির আস্ফালনই প্রাধান্য পাচ্ছে।

ছবি: রয়টার্স
রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব সত্ত্বেও ইরানে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ঐক্যবদ্ধ সমর্থন নেই। উপদেষ্টারা ভয় পাচ্ছেন, যুদ্ধের খবর সাধারণ ভোটারদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে। বি

শেষ করে দোদুল্যমান ভোটাররা যখন অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত, তখন যুদ্ধের ডামাডোল তাঁদের বিমুখ করতে পারে। রিপাবলিকান প্রচার কর্মকর্তাদের মতে, ভোটারদের ধরে রাখতে ট্রাম্পের উচিত কর হ্রাস এবং আবাসন ও ওষুধের মূল্য কমানোর মতো বিষয়গুলোতে জোর দেয়া।


নভেম্বরের নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। যদি ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ রব গডফ্রে মনে করেন, ট্রাম্পের মূল সমর্থক গোষ্ঠী বিদেশের মাটিতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের বিরোধী। কারণ, ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করা ছিল ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ফলে ইরানের সাথে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তাঁর নিজের সমর্থকদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

গত মাসে ভেনিজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঝটিকা অভিযান ট্রাম্পের সমর্থকরা ইতিবাচকভাবে নিলেও ইরান একটি অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। গত জুনে ইরান মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

ছবি: রয়টার্স
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা শুধু তখনই সামরিক পদক্ষেপ সমর্থন করবে যদি তা সংক্ষিপ্ত এবং চূড়ান্তভাবে সফল হয়। তা না হলে এটি আরেকটি ‘আফগান’ বা ‘ইরাক’ যুদ্ধের মতো দীর্ঘসূত্রতায় রূপ নিতে পারে।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন যেভাবে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে প্রচার চালিয়েছিল, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। তিনি কখনো বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের কথা বলছেন, আবার কখনো পারমাণবিক কর্মসূচি বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা তুলছেন। এই অস্পষ্টতা স্বতন্ত্র ভোটারদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করছে।

ট্রাম্প নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছেন যেখানে ইরান যদি বড় ধরনের ছাড় না দেয়, তবে হামলা না করলে আন্তর্জাতিকভাবে তাঁকে 'দুর্বল' মনে হতে পারে। আবার হামলা করলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি তৈরি হবে। এই উভয় সংকটের সমাধানই এখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।