জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ে অন্ধকারে কিউবা, বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ

কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড সোমবার ভেঙে পড়ায় দেশটির লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী সংস্থা। দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের মধ্যে এটি কিউবার সাম্প্রতিকতম বড় ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়। দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে তেলবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে এই সংকট আরও চরম আকার ধারণ করেছে। খবর বিবিসি’র।

কিউবার গ্রিড অপারেটর ‘ইউএনই’ জানিয়েছে, তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রদেশ ও শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। প্রায় ১ কোটি মানুষের দেশ কিউবা গত কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে, যা মাঝেমধ্যেই বিরল সব বিক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।


কিউবা মূলত আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ভেনেজুয়েলা দেশটিকে প্রতিদিন প্রায় ৩৫,০০০ ব্যারেল তেল সরবরাহ করত, যা কিউবার মোট চাহিদার অর্ধেক পূরণ করত। কিন্তু গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করার পর থেকে এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবা অভিমুখী বেশ কয়েকটি তেলের চালান জব্দ করে দেশটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকিও দিয়েছেন, কোনো দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করলে সেই দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলের মতে, গত তিন মাসে কিউবায় তেলের কোনো চালান পৌঁছায়নি।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন কিউবাকে ‘দখল করার সম্মান’ তিনি অর্জন করবেন। তিনি বলেন, আমি দেশটিকে মুক্ত করি কিংবা দখল করি- আমি চাইলে এর সাথে যা খুশি তা-ই করতে পারি। সত্য বলতে, তারা এখন অত্যন্ত দুর্বল একটি দেশ।”

এর আগে ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল কাস্ত্রো একটি মার্কিন সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের শত্রু হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প ইতিপূর্বে কিউবাকে একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।


গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল নিশ্চিত করেছেন, বিদ্যমান মতভেদ দূর করতে তাঁর সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

জ্বালানি সংকট এবং গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবানদের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গত সপ্তাহে মোরন শহরে খাদ্যপণ্যের চড়া দাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা কমিউনিস্ট পার্টির একটি কার্যালয়ে হামলা চালায়।

হভানার একজন বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, সাম্প্রতিক এই ব্ল্যাকআউট তাঁকে মোটেও অবাক করেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এভাবেই বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।