কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্প, বহু হতাহতের আশঙ্কা

লাতিন দেশ কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্প। গত এক দশকের মধ্যে কলম্বিয়ায় নথিভুক্ত এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ধসে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি ও ভবন, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বহু মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ০৭:৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূগর্ভের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎস।

Colombia Earthquake 06
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পশ্চিম কলম্বিয়ার চোকো বিভাগের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকা সান হোসে দেল পালমারে, যা রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ২৮০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি শহর। পেরেইরা শহরের মেয়র মাওরিসিও সালাজার জানান, এখানে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কালির মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই শহরের অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষদের বের করার চেষ্টা করছেন।

Colombia Earthquake 02
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মানিজালেস শহরে ঐতিহাসিক একটি নিও-গথিক ক্যাথেড্রালের চূড়া (ট্রেস) ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। এছাড়া চোকো বিভাগের রাজধানী কিবদো, ভ্যালে দেল কাউকা এবং অ্যান্টিওকিয়াসহ একাধিক অঞ্চলে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কলম্বিয়ান জিওলজিক্যাল সার্ভিস জানিয়েছে, মূল কম্পনের পর আরও দুটি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে (যার একটি ছিল ৪.৮ মাত্রার)। ভূকম্পনটি প্রতিবেশী দেশ ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামা পর্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

Colombia Earthquake 04
ভূমিকম্পের আঘাতে দেশের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অন্তত সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাপেনতুরা বিমানবন্দর নিরাপত্তা জনিত কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পুরাসে আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই নির্গত হওয়ার কারণে পোপায়ান বিমানবন্দরও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Colombia Earthquake 05
রাজধানী বোগোতার মেয়র কার্লোস ফার্নান্দো গালান জানিয়েছেন, বোগোতায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০০ জনের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল সেনা বিমানে করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

মাত্র গত শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়া কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলিয়ার্দো দে লা এস্পরিয়েলা তাৎক্ষণিকভাবে ন্যাশনাল ক্রাইসিস রুমে জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনারা একা নন। রাষ্ট্র আপনাদের পাশে আছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।


এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কলম্বিয়াকে যেকোনো সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, কলম্বিয়া একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প একটি সাধারণ ঘটনা হলেও ৬.০ মাত্রার ওপরের কম্পন বেশ বিরল। এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির আরমেনিয়া অঞ্চলে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১,১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।