কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার সকালে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা একলাফে বেড়ে কমপক্ষে ৭৭ জনে পৌঁছেছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কম জনবহুল জেলা চোকোর সান হোসে দেল পালমারে ভূগর্ভের ১০৭ কিলোমিটার গভীরে এই ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
ভূমিকম্পটির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাজধানী বোগোতাসহ সমগ্র কলম্বিয়া এবং প্রতিবেশী দেশ ভেনিজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামা পর্যন্ত তা প্রচণ্ডভাবে অনুভূত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়ে শত শত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর গভর্নর ও মেয়রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সর্বশেষ হতাহতের পরিসংখ্যান:
রিজারালদা: কলম্বিয়ার বিখ্যাত কফি উৎপাদনাঞ্চল রিজারালদা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পেনিও জানান, কেবল এই প্রদেশেই ৪২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা (Pereira) শহরে ৪-তলা একটি ভবন ধসে পড়ে এবং ঐতিহাসিক সান হোসে চার্চের সামনের অংশ আংশিক ভেঙে পড়ে।
ভ্যালে দেল কাউকা: এই প্রদেশে ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩ জন শিশু। প্রদেশের গভর্নর ডিলিয়ান ফ্রান্সিসকা তোরো জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। ক্যালি (Cali) শহরের মেয়র জানান, দুটি ডজনেরও বেশি বড় কাঠামো ধসে পড়ায় সেখানে অসংখ্য মানুষ এখনও আটকে আছেন।
চোকো: উৎপত্তিস্থল চোকো অঞ্চলে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় এক মেয়র কারাকোল রেডিওকে জানান, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন।
মানিজালেসে ৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, অ্যান্টিওকিয়াতে ১ জন মারা গেছেন।

নতুন সরকারের প্রথম বড় সংকট ও জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা
মাত্র ক’দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়া ডানপন্থী রাজনীতিক আবেলিয়ার্দো দে লা এস্পরিয়েলা এই দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রশাসনের প্রথম বড় সংকটের মুখোমুখি হলেন। বোগোতাগামী বিমানে থাকার সময় এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি স্থগিত রেখে জরুরি সমন্বয় কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে তিনি সরাসরি রাজধানীতে পৌঁছাচ্ছেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশটির সরকার 'জাতীয় বিপর্যয়' ঘোষণা করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তায় কলম্বিয়ান সেনাবাহিনীর ৫টি বিশেষ উদ্ধারকারী প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী বোগোতা থেকেও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসেই কলম্বিয়ার প্রতিবেশী দেশ ভেনিজুয়েলায় দুটি জোড়া ভূমিকম্পে ৬,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন করে এই ভূমিকম্পে ভেনিজুয়েলার সীমান্ত এলাকাগুলোও কেঁপে ওঠে।
কলম্বিয়ার এই মানবিক বিপর্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিশ্বনেতারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার তৎপরতায় সব ধরণের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
