রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী ‘আর্খিপো-ওসিপোভকা’ গ্রামের কাছে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পর্যটকে ভরা সৈকতের দিকে একটি ড্রোন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের দিকে নেমে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যেই এক বিশাল আগুনের গোলকায় পরিণত হয়ে বিস্ফোরিত হয়। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো ধরনের সাইরেন বা আগাম সতর্কতা ছাড়াই এই আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে।

ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এই ঘটনার জন্য সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ী করে একে সাধারণ মানুষের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বর্বরোচিত হামলা বলে অভিযোগ করেছেন। ইউক্রেন অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ড্রোনটির মূল লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা এখনও অস্পষ্ট। রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট বিস্ফোরণের ঠিক আগেই তারা গুলির শব্দ শুনতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি সরাসরি জনবহুল সৈকতে আছড়ে পড়ে।
পাল্টা আক্রমণ ও দূরপাল্লার বিমান হামলা: সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে বহুদূরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদামগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সম্প্রতি মস্কোর কাছে ভ্লাদিমির অঞ্চল এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে রাশিয়ার বিখ্যাত অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একাধিক বিশাল গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের দাবি, এই অনলাইন রিটেইলারের ডিপোগুলো সামরিক পোশাক, বডি আর্মর ও ড্রোন তৈরির উপাদান সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২২ সালে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। গত শনিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হন। এর আগে ক্রাইভি রিহ এলাকায় এক হামলায় একই পরিবারের ১০ জন সদস্য প্রাণ হারান।
বিশ্বব্যাপী নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সীমিত হয়ে পড়ায় আর্খিপো-ওসিপোভকার দীর্ঘ ও রোদঝলমলে সমুদ্রসৈকতটি রুশ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু যুদ্ধের এই ভয়াবহ শিখা এবার অবকাশ যাপনের সেই শান্ত সৈকতকেও রক্তে রঞ্জিত করল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
