যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের গ্রামীণ আকাশে প্রশিক্ষণ চলার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হঠাৎ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে পাইলট সময়মতো বিমান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আকাশে প্রকাণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় এবং বিমান থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ১৯০ মাইল দূরে আলপেনায় একটি ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ অনুশীলনে অংশ নিয়েছিল টেক্সাসের দ্য ১৪৯ ফাইটার উইংয়ের এই এফ-১৬ বিমানটি। দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে অন্য এক পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে রেডিওতে জরুরি ‘মে-ডে’ সংকেত পাঠিয়ে জানান, মনে হচ্ছে আমার উইংম্যান পাখির সাথে ধাক্কা খেয়েছে। বার্তা পাওয়ার পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল নিকটস্থ বিমানবন্দরে ল্যান্ডিংয়ের প্রস্তাব দিলেও পাইলট জানান যে বিমানটি ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে।
যদিও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ পাখির সাথে সংঘর্ষের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলট সচেতন রয়েছেন এবং পুলিশের সাথে কথা বলতে পেরেছেন।
দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইল দূরে কাজ করা স্থানীয় বাসিন্দা নাথান স্মিথ জানান, এত কম গতিতে ও নিচে বিমান উড়তে দেখে তিনি ভিডিও করা শুরু করেন। তার কিছুক্ষণ পরেই তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান, যা পাইলটের বিমান থেকে বেরিয়ে আসার শব্দ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ফ্রেড সোবেক দুর্ঘটনাস্থলে একটি বিশাল 'অগ্নিগোলক' এবং দফায় দফায় বিস্ফোরণ দেখতে পান।
দুর্ঘটনার পর ধ্বংসাবশেষ থেকে হাইড্রাজিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পুলিশ ১ মাইল এলাকার বাসিন্দাদের অনতিবিলম্বে ঘর ছেড়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, এফ-১৬ বিমানের জরুরি বিদ্যুৎ সচল রাখতে হাইড্রাজিন নামক এই অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। ২০০০ সাল থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর এই মডেলের অন্তত ১৪টি মারাত্মক 'ক্লাস এ' দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মার্কিন সামরিক এভিয়েশনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি