বহুল আলোচিত যুক্তরাষ্ট্র সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সরাসরি আমেরিকান তৈরি আধুনিক অস্ত্র কেনার অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও চীনপ্রধানের মধ্যকার এই অবিশ্বাস্য বার্তালাপের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন।
ওয়াশিংটনে শি জিনপিংয়ের হাই-প্রোফাইল তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের ঠিক পরপরই ট্রাম্পের এই অযাচিত প্রস্তাবের খবর প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ও অদ্ভুত অফারে প্রেসিডেন্ট শি কী উত্তর দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিছু জানাননি।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও চা চক্র শেষ হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, চীন বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং নিজের সার্বভৌমত্বের চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব সামরিক বাহিনী গড়ে তুলছে।
মূলত তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ট্রাম্পের এই অদ্ভুত অফারের কথা সামনে আনেন।
তিনি জানান, ট্রাম্প সব সময় বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে, সেই হিসেবেই তিনি শি জিনপিংকেও অস্ত্র কেনার কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। তবে এর পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, আমেরিকার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের এমন কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সত্তরের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলায় আমেরিকার সাথে কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে ১৯৮০-এর দশকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কামান র্যা ডার ও টর্পেডোর মতো সামরিক সরঞ্জাম কিনেছিল, যা ১৯৯০ সালের পর সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা চীন প্রতিনিয়তই মার্কিন অস্ত্র বিক্রির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের এক সুবিশাল অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যা ১৯৭৯ সালের পর যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সর্বোচ্চ সামরিক সহায়তা।
তাইওয়ানকে একদিকে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা এবং অন্যদিকে শি জিনপিংকে আমেরিকান অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দেয়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দ্বিধাগ্রস্ত ও চমকপ্রদ কূটনীতি এখন পুরো বিশ্বমঞ্চে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি