বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিপজ্জনক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী হ্যাকার গোষ্ঠী ‘শাইনিহান্টার্স’ মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ডেটাবেজে থাবা বসিয়ে বাগিয়ে নিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটির কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রার্থীদের অত্যন্ত গোপনীয় সংবেদনশীল মেডিকেল ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের তথ্য!
চলতি সপ্তাহে এফবিআইয়ের সিস্টেমে অনুপ্রবেশের পর হ্যাকাররা দাবি করে, তারা সংস্থাটির দুইটি পোর্টাল থেকে প্রায় দুই থেকে তিন টেরাবাইট পরিমাণের তথ্য চুরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স হ্যাকারদের কাছে থাকা এসব নথির কিছু নমুনা যাচাই-বাছাই করে দেখেছে, যেখানে এফবিআই কর্মীদের বিষণ্নতার লক্ষণ, রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষার ফল, হার্টের ইসিজি রিপোর্ট থেকে শুরু করে অত্যন্ত ব্যক্তিগত সাইকিয়াট্রিক মূল্যায়নের চাঞ্চল্যকর সব রেকর্ড রয়েছে।
এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ও চীনা-রুশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বা ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে কর্মরত গোয়েন্দাদের বিস্তারিত কর্মপরিধি চুরি হওয়ার ঘটনার এই মাত্রা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে এক মহা ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এরিক ও'নিল একে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল ও মানসিক স্বাস্থ্যের গোপনীয় নথিগুলো এখন বিদেশি শত্রু গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক মহাদামী সম্পদ হয়ে উঠবে। রুশ বা চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন হ্যাকারদের দরজায় কড়া নেড়ে বলবে, সব তথ্য আমাদের কাছে হস্তান্তর করো। এর আগে ২০১৫ সালে মার্কিন পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট কার্যালয় থেকে লাখ লাখ কর্মকর্তার তথ্য চুরির সাথে এই ঘটনার মিল পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংগৃহীত নথিতে এফবিআইয়ের সাবেক ও সম্ভাব্য কর্মীদের ওষুধ সেবনের তালিকা, অ্যালার্জির তথ্য থেকে শুরু করে হাইস্কুল জীবনের মানসিক বিষণ্নতার তথ্য এবং চিকিৎসকদের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর মিলেছে। রয়টার্স নথিগুলোতে থাকা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং লিঙ্কডইন প্রোফাইলের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
পুরো ঘটনায় মার্কিন গোয়েন্দা মহলে প্রবল শঙ্কা দেখা দিলেও এফবিআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেনি, তবে এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা এই সাইবার অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আগ্রাসীভাবে তদন্ত করছে। শাইনিহান্টার্স হ্যাকার গোষ্ঠী এই মহামূল্যবান তথ্য ফাঁস বা বিক্রির বদলে কী শর্ত বসাতে চলেছে, তা নিয়ে এখন তোলপাড় পুরো পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা পাড়ায়।
দাদাগিরি মানবো না, শুধু সংলাপে রাজি: ইরানি প্রেসিডেন্ট
সামরিক সরঞ্জাম মাটির নিচের সুরক্ষিত ঘাটিতে সরাচ্ছে ইরান
রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক