ভয়াবহ ও জীবননাশী শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুর উপদ্বীপের দিকে ধেয়ে আসছে ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার শক্তিশালী হারিকেন 'পোলো'। সোমবার যে কোনো মুহূর্তে উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় লরেটো ও সিউদাদ কনস্টিটিউশন শহরের ব্যবসায়ী ও রেস্তোরাঁ মালিকরা রাতভর দোকানপাট কাঠ দিয়ে ঢেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হতে থাকায় এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে জনগণকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনসিএইচ) তথ্য অনুযায়ী, সোমবারে ক্যাটাগরি-৩ হারিকেন হিসেবে ‘পোলো’ বাহা ক্যালিফোর্নিয়া সুরের কাবো সান লাজারো থেকে মাত্র ১২৫ মাইল (২০০ কিমি) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। সে সময় এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৫ মাইল (১৮৫ কিমি)।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপদ্বীপে আঘাত হানার সময় এটি ধ্বংসাত্মক রূপেই থাকবে এবং এর প্রভাবে ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (৬ থেকে ১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চলে জীবনঘাতী আকস্মিক বন্যা এবং ভয়াবহ ভূমিধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যেই গত কয়েক দিন ধরে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে তাণ্ডব চালিয়েছে হারিকেন 'পোলো'। এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টি ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে বন্দর বন্ধ, স্কুল স্থগিত এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মেক্সিকোর হালিসকো রাজ্যে একটি ঘর প্লাবিত হয়ে ভেসে যাওয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের বাবা-মা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া পুয়ের্তো ভাইয়ার্তার সৈকতে উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেছেন এক তরুণী। পর্যটন কেন্দ্র লস কাবোস অতিক্রম করার পর ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হলেও পরবর্তীতে সোমবার গভীর রাতে বা মঙ্গলবার ভোরে মেক্সিকোর মূল ভূখণ্ডে দ্বিতীয়বার আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স