আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর বোনকে বেকসুর খালাস

বিনিয়োগকারীদের ১০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখ ঠেলে দেওয়া আলোচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারির মামলা থেকে মুক্ত হয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই ও তাঁর বোন কারিনা মিলেই। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

মামলার বিবরণ ও বিচারক মার্সেলো মার্তিনেস দে জর্জির দেওয়া রায় পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে বর্ণিত ঘটনাগুলো কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রেসিডেন্ট মিলেই তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'লিব্রা' নামের একটি মিম কয়েনের প্রশংসা করে লেখেন, বিশ্ব এখন আর্জেন্টিনায় লিব্রার মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। প্রেসিডেন্টের সেই বার্তার পরপরই মুদ্রাটির দামে জোয়ার আসে।

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম অবিশ্বাস্যভাবে ধসে পড়ে। বিষয়টি অনুধাবন করে মিলেই দ্রুতই পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং পরবর্তীতে এ ধরনের প্রচারণায় যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, প্রজেক্টটির অভ্যন্তরীণ বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা ছিল না।

ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞরা পুরো ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত 'রাগ পুল' বা ক্রিপ্টো প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করেন—যেখানে উদ্যোক্তারা নতুন টোকেন এনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের থেকে কোটি কোটি ডলার সংগ্রহ করার পর হঠাৎ সব অর্থ তুলে নিয়ে চম্পট দেয়। এতে প্রেসিডেন্টের কোনো প্রত্যক্ষ মদদ বা সমন্বিত কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

তবে আদালত তাঁর রায়ে জানান, ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার হঠাৎ অস্বাভাবিক উত্থান-পতন কিংবা বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি হওয়াটাই প্রতারণা প্রমাণের জন্য আইনগতভাবে যথেষ্ট নয়। একইসঙ্গে মামলার তদন্তাধীন আরও ৯ জনকেও আদালত অব্যাহতি দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের বোন কারিনা মিলেই, যিনি দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি অর্থের বিনিময়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

তবে বিচারক স্পষ্ট করে বলেন, কারও সঙ্গে সম্পর্কের সুবাদে শুধু সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়া বা যোগাযোগ করিয়ে দেয়াটা নিজে থেকেই প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি সুবিধা আদায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ফলে তদন্ত শেষে অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকায় আদালত মামলাটি পুরোপুরি খারিজ করে দেন।