জর্ডানের কারাক প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ৪০ জন আহত হওয়ার পর রাজধানী আম্মানসহ দেশজুড়ে শপিং মল, বিদেশি দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনার পর হামলাকারী সশস্ত্র উগ্রবাদীদের ধরতে ব্যাপক চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার দিনদুপুরে কারাক অঞ্চলের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আততায়ীরা বেশ কয়েক মিনিট ধরে উপাসনালয়ে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।
জর্ডান সরকার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে সরাসরি 'উগ্রবাদী সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
হাসপাতালে স্বজনদের পাশে থাকা তারেক আম্মারিন নামে এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি শব্দের সব দিক থেকেই একটি ভয়াবহ গণহত্যা।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জর্ডানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। দেশটির সরকারের তথ্যমতে, অতীতেও ইসলামী চরমপন্থীদের একাধিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে। তবে হামলায় জড়িতরা কোনো দেশি বা বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই কারাক অঞ্চল পরিদর্শনে যান জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ। তিনি হামলাকারীদের কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান বলেন, এটি অন্ধ উগ্রবাদ ও উগ্র মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশ। কোনো অবস্থাতেই সমাজকে এই পথ বেছে নিতে দেয়া হবে না।
জর্ডানের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত। বহু ঐতিহাসিক ও বাইবেল-সংশ্লিষ্ট পবিত্র স্থানের কারণে প্রতিবছর সারাবিশ্ব থেকে প্রচুর খ্রিস্টান পুণ্যার্থী জর্ডানে আসেন। চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর জর্ডানে এমন হামলায় পুরো দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে চার্চ প্রাঙ্গণে ভারী সশস্ত্র পুলিশ পাহারা দিচ্ছে এবং পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
দোকানের কাচের দেয়াল কাঠ দিয়ে ঢাকছে প্যারিস!
ফ্রান্সে সহিংসতা দমনে নামছে ৭০ হাজার পুলিশ