সুনামিতে বিধ্বস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিশোধিত পানি গেলো আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়া শুরু করেছে জাপান সরকার। এর পরই জাপান থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে টোকিও।
বৃহস্পতিবার জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের এই উদ্যোগ দেশটির সামুদ্রিক খাবার শিল্পের ওপর আঘাত হেনেছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় গেলো আগস্ট মাসে চীনে রপ্তানির পরিমাণ ৭৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি এমন সামুদ্রিক খাদ্যের রপ্তানি গত মাসে ছিলো প্রায় ২১৮ কোটি ইয়েন বা এক কোটি ৪৬ লাখ ডলার। যার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নগণ্য।
এদিকে পানি পরিশোধন করে অধিকাংশ তেজস্ক্রিয় উপাদান সরিয়ে নেয়া হলেও তাতে এখনও ট্রিটিয়ামের উপস্থিতি রয়ে গেছে
এমন পরিস্থিতিতে দেশটির মৎস্য শিল্পকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে জাপান সরকার।
এরইমধ্যে এই খাতে ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে দেশটি।
এদিকে প্ল্যান্টের অপারেটর টেপকো আগামী মার্চের শেষের দিকে আরও তিন দফা পানি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এ নিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
২০১১ সালে ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে ওকুমায় অবস্থিত ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি চুল্লির (রিয়্যাক্টরের) দু’টিতে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আরও তিনটি রিয়্যাক্টরে আংশিক গলন ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল দুর্ঘটনা পর এতো বড় পারমাণবিক দুর্ঘটনা আর কোথাও ঘটেনি।