আল-শিফাতে হামলায় ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার

হেলফায়ার! বাংলায় নরকের আগুন! আমেরিকার তৈরি একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটির রয়েছে ব্যাপক ও বিস্তৃত মারণ ক্ষমতা। যেখানে আঘাত করে, সেখানে বিস্ফোরিত না হলেও খবর করে দেয়। গাজার বড় হাসপাতাল আল-শিফাতে হামলা চালাতে এই হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরাইল।

আমেরিকার সামরিক সূত্র প্রেসটিভিকে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফায় শুক্রবার রাতের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে । হেলফায়ার এমন এক প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র, যা বিস্ফোরিত না হলেও এর ঘূর্ণায়মান ব্লেড তিন ফুট দূরত্বের মধ্যে যে কারো শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। আল-শিফায় হামলার ধরন দেখে মনে হয়ে এটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

হামলায় ইসরাইলের সেনাবাহিনী দূর-নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এজিএম-১১৪ আর-৯-এক্স মডেলের হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের অস্ত্রভাণ্ডারে আগে থেকেই রয়েছে। এটি বহন ও ছোড়ার জন্য আমেরিকার প্রয়োজনীয় ড্রোনও দিয়ে রেখেছে।

হেলফায়ার একটি ত্রিমাত্রিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভূমি-আকাশ ও সাগর থেকেই নিক্ষেপ করা যায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেড় কিলোমিটার থেকে শুরু করে আট কিলোমিটার দূরত্বের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এটির রয়েছে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা। অনেকে এটিকে আকাশের যমদূত হিসাবেও ডেকে থাকে।

আল-শিফা হাসপাতালে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর কাজে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন বাহিনীর এক বিশ্লেষক প্রেসটিভিকে বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন থেকে নিক্ষেপ করে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। সেখানে হামলার ধরন দেখে বোঝা যায়, ড্রোনই ব্যবহার করা হয়েছে।

ফাইটার থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। কিন্তু তা করতে হলে বিমানটিকে অনেক নিচে নেমে আসতে হতো এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের গুলিতে ভূপাতিত হতে পারতো। কাজেই ক্ষেপণাস্ত্রটি যেমন আমেরিকায় তৈরি তেমনি এটি নিক্ষেপ করার কাজেও একই দেশের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের দাম এক লাখ ৫০ হাজার ডলার বলে তিনি জানান।