চীনকে কতটা সামাল দিতে পারবে লাইয়ের তাইওয়ান?

চীন যাকে আখ্যা দিয়েছে সমস্যা সৃষ্টিকারী কিংবা বিপজ্জনক বিচ্ছিন্নতাবাদী, সেই ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি ডিপিপি’র প্রার্থী লাই চিং-তে হচ্ছেন তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাই কীভাবে চীনকে সামলান কিংবা চীন তাকে কীভাবে নেয়, মূলত এর ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে লাইয়ের প্রেসিডেন্সি। তাইওয়ানে এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডিপিপি’কে ভোট না দিতে চীন বারবার হুমকি দিয়েছিল। তারপরও তাইওয়ানের লাখ লাখ মানুষ ভোট দিয়ে তারা নির্বাচিত করেছে সেই ডিপিপি’রই প্রার্থীকে।

চিকিৎসক থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৬৪ বছর বয়সী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে কে মানুষ বেছে নিয়েছে তাইওয়ানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।

তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন সার্বভৌম মনে করে। অন্যদিকে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে চীন। বিশেষ করে আট বছর ধরে স্বশাসিত তাইওয়ানের প্রতি হুমকি বাড়িয়ে চলেছে চীন ।

তাইওয়ানের এই নির্বাচনে কে জয়লাভ করতে যাচ্ছেন, বিশ্ব শুধু তার দিকেই নজর রাখেনি, তাইওয়ানের প্রতিবেশী চীন কীভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটির দিকেও চোখ রাখছে বিশ্ব ।

তাইওয়ানে ২০১৬ সালে শেষবার সরকার পরিবর্তন হয়েছিলো। তখনই ক্ষমতায় আসে ডিপিপি। ডিপিপি ক্ষমতায় আসার জেরে তাইপের সঙ্গে বেশিরভাগ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বেইজিং।

পরবর্তী বছরগুলোতে তাইওয়ানের ওপর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে চীন। লাই তার জয়কে গণতান্ত্রিক সম্প্রদায়ের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

লাই তার মেয়াদের পূর্বসূরি সাই ইং-ওয়েনের আট বছরের শাসনের ধারাবাহিকতাই হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদের মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে।

লাইয়ের জয়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় চীনের তাইওয়ানবিষয়ক মুখপাত্র চেন বিনহুয়া একটি বিবৃতিতে বলেন, এই ভোট চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণের অনিবার্য প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

এই ভোট মৌলিক ভূ-চিত্রকে পরিবর্তন করবে না। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ । একই ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে ওয়াশিংটন থেকেও।

বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ানের ক্ষমতায় যিনিই আসুক না কেন, চীন সাগরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। লাই জেতায় তাইওয়ানের ওপর অর্থনৈতিক বা সামরিক চাপ বাড়াতে পারে বেইজিং।