এক দশক পর ভারতে আবারও একদলীয় শাসনের ইতি হতে চলেছে বলে আভাস মিলছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দুপুর পর্যন্ত ফল গণনায়।
সেই সাথে দেশটির ১৮তম লোকসভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিরতে চলেছে বিরোধী দলীয় নেতার পদ।
তৃতীয় বারের জন্য নরেন্দ্র মোদির হাতেই ক্ষমতা যাবে। তবে ভোট গণনায় পাওয়া ফলাফলের প্রবণতা বলছে ২০১৪ এবং ২০১৯ এর মতো এবার আর সংসদের নিম্নকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কট্টোর ডানপন্থী দল বিজেপি। বিশ্লেষণ আনন্দবাজারের।
বিজেপির স্লোগান ‘পরে বার ৪০০ পার’ করাতো দূরের কথা ২৫০ আসন আড়াইশো পার করাও কঠিন হতে পারে পদ্ম শিবিরের। ৫৪৫ আসনের (দু’টি মনোনীত আসনসহ) লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭৩টি। ফল গণনার প্রবণতা বলছে, ২৩৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে।
আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে কেন্দ্রে সরকার গড়ার জন্য মোদিকে নির্ভর করতে হবে জোট এনডিএ-র দুই শরিক, চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ এর ওপর।
অতীতে ওই দুই নেতারই একাধিক বার এনডিএ জোট ছাড়ার এবং ফিরে আসার উদাহরণ রয়েছে।
ভারতের ইতিহাসে মোদিই হতে চলেছেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি পর পর তিন বার ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরুর মতো পর পর তিন বার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখলের রেকর্ড করা সম্ভবত হচ্ছে না তার। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিক বার দাবি করেছিলেন, একক ভাবে বিজেপি ৩৭০ আসনে জিতবে।
অন্যদিকে, এবারের লোকসভা নির্বাচন ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে গণনা ফল বলছে। বিরোধী দলনেতার পদের জন্য লোকসভায় ৫৫টি আসনে জেতা দরকার। ২০১৪ তে ৪৪ এবং ২০১৯ এ ৫২টি আসনে জেতা কংগ্রেস পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী সেই মর্যাদা পায়নি। এ বার ভোটগণনার প্রবণতা বলছে ৯০ থেকে ১০০টির মধ্যে আসন জিততে পারে কংগ্রেস। জোট ‘ইন্ডিয়া’র সব সহযোগী দল মিলে ২০০’র গণ্ডি পেরোতে চলেছে। ফলে লোকসভার অধিবেশনেও এ বার বিরোধীদের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে মোদীকে।
এক বছর আগে গড়ে ওঠে কংগ্রেস, তৃণমূল, বামসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির যৌথমঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স) । ফল যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
গত ১৯ জুলাই বেঙ্গালুরুতে বিজেপি বিরোধী নেতাদের দ্বিতীয় বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’র আবির্ভাবের সঙ্গেই ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছিল ১৯ বছর আগে গড়ে ওঠা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ (ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স) ।
‘ইন্ডিয়া’র শরিক দলগুলির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ বা আংশিক আসন সমঝোতা হয়েছিলো এ বারের ভোটে। বাংলায় তৃণমূল, কেরলে বাম, পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (আপ), জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির মতো কেউ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ভোটের পর জোটের প্রতিশ্রুতিতে নিজেদের রাজ্যে আলাদা করে লড়েছেন। ২০২৩ সালের ২৩ জুন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের ডাকে পাটনার বিরোধী জোটের বৈঠকে ১৫টি দল ছিলো। জুলাইয়ে বেঙ্গালুরুতে সেই তালিকা বেড়ে হয়েছিলো ২৬। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে নীতীশ ফিরে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তে। কিন্তু তার দল ভাল ফল করলেও ২০১৯-এর তুলনায় আসন কমেছে বিজেপির।