অর্থাভাবে নির্বাচন না করেও মন্ত্রী নির্মলা!

অর্থের অভাবে ভারতের লোকসভা নির্বাচন করতে রাজি হননি দেশটির বিদায়ী অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তবে ঠিকই তার ঠাঁই হয়েছে টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন সরকারে। রোববার অন্য সবার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন নির্মলা।

গেলো মার্চের শেষ সপ্তাহে নির্মলা জানান, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাকে এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য একটি টিকেট দিতে চেয়েছিলো। তবে অর্থ সঙ্কটের কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। তবে তাকে এবারও মন্ত্রিসভায় রেখেছে মোদী সরকার।

নির্মলা বলেছিলেন, বিজেপি প্রধান জেপি নাড্ডা তাকে অন্ধ্র প্রদেশ থেকে বা তামিলনাড়ু থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিকল্প দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্নাটক থেকে রাজ্যসভার এই সদস্য রাজি হননি ভোটে দাঁড়াতে। তিনি জানান, এক সপ্তাহ চিন্তা করার পর ভোট না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্মলা সীতারমন বলেন, এক সপ্তাহ বা ১০ দিন চিন্তা করার পরে, আমি কেবল বলতে ফিরে এসেছি, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো এত টাকা আমার নেই। তাছাড়া, অন্ধ্র প্রদেশ বা তামিলনাড়ুকে নিজের জায়গা বলেও মনে করেন না তিনি।

sitaraman

যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো যে, কেন দেশের অর্থমন্ত্রীর কাছেও লোকসভা নির্বাচনে লড়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। উত্তরে তিনি বলেছিলেন যে, ভারতের একত্রিত তহবিল তার নয়। তিনি বলেছিলেন, আমার বেতন, আমার উপার্জন, আমার সঞ্চয় আমার, ভারতের একত্রিত তহবিল নয়।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। উত্তর প্রদেশের বারাণসী কেন্দ্র থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে এবার বেশ লড়াই করেই জিততে হয়েছে মোদীকে।

জহরলাল নেহরু ছাড়া ভারতের আর কোনও প্রধানমন্ত্রীর টানা তিন বার শপথ নেওয়ার কৃতিত্ব নেই। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আট হাজারেরও বেশি অতিথি। এতদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের ফাঁকা জায়গায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতো। তবে এবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হলও ‘কর্তব্য পথ’।