আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন

সাংবিধানিক আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন। তিনি সংবিধান ভঙ্গ করেছেন বলে থাইল্যান্ডের একটি আদালত রায় দিয়েছেন। ফলে তিনি আর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।

তার বিরুদ্ধে সাবেক সেনা সরকার মনোনীত ৪০ জন সিনেটরের একটি গ্রুপ মামলা করে। এর ওপর শুনানি করে বুধবার রায় দেন বিচারক পুনিয়া উদচাচোন। তিনি বলেন, একজন অপরাধীকে মন্ত্রীপরিষদে স্থান দেয়ায় শ্রেথাকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে ৫-৪ ভোট দিয়েছেন বিচারকরা। এর ওপর ভিত্তি করে তাকে বরখাস্ত করা হলো। খবর ডয়েচেভেলে’র।

গত সপ্তাহে দেশটির জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে নিষিদ্ধ করে দেয় ওই আদালত। দলটির নেতাদের রাজনীতি থেকে ১০ বছর নিষিদ্ধও করা হয়। দলটি গত বছরের সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছিল। আদালতের এমন রায়ের কারণে আরও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো থাইল্যান্ড। 

ব্যাংককের সাংবিধানিক আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন একজন জেলখাটা আইনজীবীকে সরকারের দায়িত্বে নিয়োগ করে নৈতিকতা ভঙ্গ করেছেন। আদালতের ৯ বিচারকের মধ্যে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী স্রেথাকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি জেনেশুনে একজন নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বলে তারা জানান। 

পিচিট চুয়েনবান নামের যে আইনজীবীকে সরকারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কাছের লোক ছিলেন।

পিচিট চুয়েনবান ২০০৮ সালে জমিসংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরপর তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জমিসংক্রান্ত মামলাটিতে থাকসিন সিনাওয়াত্রাও জড়িত ছিলেন।

এখন ক্ষমতাসীন ফেউ থাইয়ের নেতৃত্বাধীন জোট ফের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নতুন প্রার্থী দেবে। থাই পার্লামেন্টে ৫০০ সদস্যের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন স্রেথা থাভিসিন। এর মাধ্যমে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসান হয়েছিলো। যদিও তার নেতৃত্বাধীন ফেউ থাই পার্টিকে সেনাবাহিনীর মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করতে হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে অতীতেও সাংবিধানিক আদালত দ্বারা প্রধানমন্ত্রী পদচ্যুত হওয়ার উদাহরণ রয়েছে। তবে স্রেথার বেলায় তেমনটি নাও হতে পারে বলে ধারণা করছিলেন বিশ্লেষকরা। ক্ষমতায় থাকলে মন্ত্রিসভায় রদবদল করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার শেষ রক্ষা হলো না আর।