কুয়ালামপুরে সিঙ্কহোলে পড়ে নারী নিখোঁজ

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কুয়ালালামপুরের একটি ব্যস্ত রাস্তায় আট মিটার গভীর সিঙ্কহোলে পড়ে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত তার কোন চিহ্ন দেখা যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী এই ভারতীয় নাগরিক শহরটির জালান ইন্ডিয়া মসজিদে রাস্তার পাশের বেঞ্চে বসে ছিলেন এবং হঠাৎ করেই নীচের মাটিতে ঢুকে পড়ে। খবর বিবিসি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও’তে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকর্মীরা সিঙ্কহোলে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছেন। কারও কারও কাছে মই রয়েছে, অন্যরা হাতুড়ি এবং খননযন্ত্র ব্যবহার করে উদ্ধারের পথ বের করার চেষ্টা করছেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নারীকে উদ্ধার করা যায়নি।

কুয়ালালামপুর ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে, তারা স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২২ মিনিটের সময় একটি জরুরি ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। সেখানে ১৫ জনের একটি দল কাজ করছে।

sinkhole_2

অপারেশন কমান্ডার মোহম্মদ রিদুয়ান আখবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী বাহিনী এবং কে-৯ সংস্থার বিশেষজ্ঞ দল এই উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ প্রধান সহকারী কমিশনার সুলিজমি অ্যাফেন্ডি সুলাইমানের মতে, অন্যান্য বিভিন্ন সংস্থার ৯০ জন কর্মীও এই অভিযানে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানার চেষ্টা করছি।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর শিলাকে দ্রবীভূত করার ফলে একটি গর্ত তৈরি হয় এবং হঠাৎ করে দেবে যায় বলে এই ঘটনাটিকে সিঙ্কহোল বলা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রন্তে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে এমন সিঙ্ক হোল। এই সিঙ্কহোল তৈরির ঘটনায় মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটলেও, সেটি সংখ্যায় খুবই কম।

হতাহতের হিসাবে সাম্প্রতিকতম সিঙ্কহোল বিপর্যয়ের মধ্যে একটি ২০১০ সালে কানাডায় ঘটেছিলো। সেই সময়ে  মন্ট্রিয়েলের কাছে একটি ফাঁকা সিঙ্কহোল পুরো একটি বাড়িটি গ্রাস করার ঘটনায় এই বাড়িতে বাস করা একটি পরিবারের চার সদস্যই নিহত হয়েছিলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম সিঙ্কহোল দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের জিয়াওক্সহাই তিয়ানকেং। ৬৬০ মিটার গভীর এই সিঙ্কহোলটি এক লাখ ২৮ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিলো বলে গবেষকরা বিশ্বাস করেন।