ফিলিপাইনে এক নারী মেয়রকে নিয়ে তোলপাড়

রীতিমতো চোখ কপালে উঠার মতো ঘটনা। চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন ফিলিপাইনের সাবেক মেয়র অ্যালিস গুও। এমন অভিযোগ ওঠার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। অ্যালিস গুওকে গ্রেপ্তারের জন্য হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে ফিলিপাইনের পুলিশ। অবশেষে গুওকে আটক করেছে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ফিলিপাইনের ছোট শহর বামবানের মেয়র এলিস গুওর বিরুদ্ধে চীনের গুপ্তচর হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ অ্যালিস গুওর বিরুদ্ধে এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করা পরই গেল জুলাই থেকে গা ঢাকা দেন তিনি। এরপর থেকে চারটি দেশে তাকে অনুসরণ করছিল।

ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী জাকার্তার পশ্চিম সীমান্ত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যালিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সম্ভবত মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে নৌকায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করেছেন। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যালিসকে সাবেক ফেরত আনতে ইন্দোনেশিয়া প্রত্যার্পণ আইনে কাজ করছে।

chinese_spy

ফিলিপাইন অফশোর গ্যাম্বলিং অপারেশন (পোগো) নামে অনলাইনে জুয়া খেলার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে গুওর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে যার অধিকাংশ গ্রাহক চীনের নাগরিক। গত মার্চে বামবান শহরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালানোর পরেই এটির সাথে তার সম্পৃক্ততার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

কার্যালয়টি যেখানে অবস্থিত ছিল তার অর্ধেক জমির মালিকানা ছিল এলিস গুওর নামে। কিন্তু এলিসের দাবি, দুই বছর আগে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্বেই তিনি জমিটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের সময় প্রতিষ্ঠানটি বিস্তার লাভ করে। দুতার্ত ছিলেন চীনপন্থী শাসক।

নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যালিস গুও। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেছেন, বুধবারের প্রথম দিকে তাকে ফিলিপাইনে ফেরত পাঠানো হবে। আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সাজাও দেয়া হবে।

অ্যালিস গুওর পরিচয় নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, চীনা বাবা এবং ফিলিপিনা মায়ের সাথে একটি পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তবে তদন্তকারী দল বলছে, তার আঙুলের ছাপ গুও হুয়া পিং নামে একজন চীনা নাগরিকের সাথে মিলেছে এবং তাকে চীনা গুপ্তচর হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।

mayor_filipino

জাতীয়তা ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহের কারণে বর্তমানে অ্যালিস গুও তদন্তের মুখে রয়েছেন। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি একজন চীনা এজেন্ট। ইতিপূর্বে একটি সিনেট শুনানিতে নিজের শৈশব এবং বেড়ে ওঠার পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

অ্যালিস গুও সম্পর্কে বলা হচ্ছে, তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘গুও’ চীনা বংশের সঙ্গে ফিলিপিনো পারিবারিক নামগুলোর মধ্যে নেই। সিনেট শুনানির সময়, তিনি তাঁর পটভূমি নিয়েও অস্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। বিশেষ করে পরিবার ও পড়াশোনা নিয়ে তাঁর দেয়া উত্তরগুলো কর্তৃপক্ষের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।

অ্যালিস গুও দাবি করেছেন, ১৭ বছর বয়স হওয়ার পর তাঁর জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল। কারণ তিনি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে জন্ম নেননি। ফলে, জন্মের পরপরই জন্ম নিবন্ধনও করা হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারিক আবহে বাড়িতে পড়াশোনা করেছেন। তবে এনিয়ে কোন তথ্য দিতে পারেননি।

বিষয়টি নিয়ে ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও কথা বলেছেন। গুওর বিরুদ্ধে তদন্তকে সমর্থন করে তিনি বলেন, আমি টারলাক প্রদেশের সব রাজনীতিবিদকে চিনি। কেউই তাঁকে চেনে না। তাই আমরা ভাবছি— তিনি কোথা থেকে এসেছেন, তা জানতে সত্যিই তদন্ত প্রয়োজন।

এখন পর্যন্ত ফিলিপাইনের নাগরিক হিসেবে নিজের দাবির পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন অ্যালিস গুও। পাশাপাশি বেআইনি জুয়া খেলায় জড়িত থাকার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় যদি প্রমাণিত হয়, তিনি ফিলিপিনো নন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা হতে পারে।