বেশ কয়েকবছর ধরে গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর অভিযোগ থাকা বেলুগা প্রজাতির তিমিটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই তিমিটিকে রাশিয়া প্রশিক্ষণ দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করাচ্ছিলো বলে অনেকদিন ধরেই বলে আসা হচ্ছে।
ভলদিমির নামের ওই প্রাণীটির মরদেহ শনিবার নরওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর রিসাভিকার কাছে দুই জেলে ভাসতে দেখে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সেটি উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেয়া হয়েছে।
ভলদিমিরকে প্রথম দেখা যায় গত পাঁচ বছর আগে। তার গলায় একটি যন্ত্র লাগানো ছিলো। এতেই ধারণা ছড়িয়ে পড়ে, ভলদিমির রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির কাজ করছিলো।
রাশিয়া তা কখনো স্বীকার না করলেও তিমি দিয়ে গুপ্তচরের কাজ করানোর অভিযোগ দেশটির বিরুদ্ধে আরও আগে থেকেই রয়েছে।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন মাইন্ড’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ভলদিমির আর দশটা বেলুগা তিমির মতো সাধারণ নয়। সে মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্কের অন্যতম এক প্রতীক।
অবশ্য নরওয়েজীয় ভাষায় এই তিমিকে বলা হয় হাভাল। তবে স্থানীয়রা এটার নাম দেয় ভলদিমির। নরওয়েজিয়ান ভল শব্দ মজা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আবার এর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামের অংশ জুড়ে দেয়া যায়। তাই এর পরিচিতি হয়ে ওঠে ভলদিমির নামেই।

ধবধবে সাদা রঙের তিমিটির উত্তর নরওয়ের উপকূলে প্রথম দেখা যায় ২০১৯ সালে। তার দেহে ক্যামেরা আটকানোর একটি খোপে ‘সেন্ট পিটার্সবার্গের যন্ত্র’ শব্দগুচ্ছ খোদাই করা ছিলো।
এতে ধারণা তৈরি হয়, তিমিটি গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মেরিন মাইন্ডের প্রতিষ্ঠাতা সেবাস্টিয়ান স্ট্রান্ড এএফপিকে বলেছেন, তিমিটির মৃত্যুর কারণ অজানা। ভলদিমিরের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিলো না।
তবে তিমিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পরীক্ষা– নিরীক্ষার জন্য মরদেহটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গবেষকরা বলছেন, ভলদিমিরের আনুমানিক বয়স ১৫ বছর হতে পারে। বেলুগা প্রজাতির মিতিগুলো গড়ে ৬০ বছর বাঁচে। তাই বলতে হবে, এই তিমিটির অপরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে।
তিমিটিকে প্রথম দেখা যাওয়ার পরই রহস্য ছড়িয়ে পড়ে। সেটা ২০১৯ সালের এপ্রিল। রাশিয়ার একটি নৌবহর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দুরে ইনগোয়া দ্বীপের কাছে নরওয়েজিয়ান কয়েকটা নৌকার কাছে ভেসে ওঠে ভলদিমির।
আর তখনই এটি নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। কারণ, ওই এলাকাটি উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাছাকাছি ছিলো এবং সচরাচর সেখানে বেলুগা প্রজাতির তিমি তেমন একটা দেখা যায় না। সে সময়ই ঘটনার তদন্তে নামে নরওয়ের গোয়েন্দা সংস্থা।
বিসিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের পর নরওয়ের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, তিমিটি রাশিয়ান সেনাবাহিনীর দ্বারা প্রশিক্ষিত বলে মনে হচ্ছে। কারণ সে মানুষের সাথে মিশতে অভ্যস্ত।
জিম্মি মুক্তি চুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, ধর্মঘটের ডাক