ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দূষিত পানি সাগরে নিষ্কাশনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে চীন ও জাপান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক বিরোধের অবসান ঘটলো দেশ দুইটির মধ্যে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)’র কাঠামোর মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাপানের প্রতিশ্রুতিই ছিল এ ঐকমত্যের কেন্দ্রে। এ চুক্তিতে নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার মূল ধাপগুলোতে চীনসহ অন্যান্য অংশীজনরা স্বাধীনভাবে নমুনা বাছাই, পর্যবেক্ষণ ও আন্তঃগবেষণাগারে পরীক্ষার ফল তুলনা করতে পারবে। খবর রয়টার্স’র।
গত বছরের আগস্ট থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর চুক্তিটি হয়। টোকিও যখন ২০২৩ সালের আগস্টে সাইট থেকে শোধিত তেজস্ক্রিয় জল সাগরে নিঃসরণ শুরু করে, তখন বেইজিং একে ‘আন্তর্জাতিক প্রভাবসহ একটি প্রধান পারমাণবিক নিরাপত্তা সমস্যা’ বলে অভিহিত করেছিল।
সেসময় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ’র ছাড়পত্রের পরও জাপান ‘বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি’ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনের সমালোচনা করে। জাপানি কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিকল্পনাটি আন্তর্জাতিক মান পূরণ করেছে এবং মানুষ ও পরিবেশের উপর ‘নগণ্য’ প্রভাব ফেলবে। এরপর জাপান পানি ছেড়েছে।
এরপর জাপান থেকে সমস্ত জলজ পণ্য আমদানির ওপর গণনিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও করেছিল চীনা কর্তৃপক্ষ।
বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছানোর অর্থ এই নয় যে, চীন অবিলম্বে জাপানি জলজ পণ্য আমদানি আবার শুরু করবে। জাপানি পক্ষের সাথে প্রযুক্তিগত পরামর্শের পরই ধীরে ধীরে জাপানি জলজ পণ্য আমদানি আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে উভয়পক্ষই সমুদ্রে পারমাণবিক দূষিত পানির নিঃসরণ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ হ্রাসের জন্য বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশ এবং মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে গঠনমূলক, বিজ্ঞান-ভিত্তিক সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি।