ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য উড়িষ্যায় অতিবৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে বন্যার্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে। বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে উত্তর উড়িষ্যা এবং সুবর্ণরেখা নদী সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিনে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি আকাশপথে বালাসোর জেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষদের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর পিটিআই’র।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বালিয়াপাল, জলেশ্বর এবং ভোগরাই গ্রাম। এসব এলাকা পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, এনডিআরএফের একটি, ওডিআরএএফের তিনটি এবং ফায়ার সার্ভিসের আটটি দলকে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা ত্বরান্বিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্তত ৩৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা এখনও পানিবন্দি হয়ে আছেন। তাদের সহায়তা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিপাতে সুবর্ণরেখা, বুধবালাং এবং জলকা নদীর পানি উপচে পড়ছে। এ কারণেই এমন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
তবে বন্যায় রাজ্যটিতে এখনো কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন মোহন চরণ মাঝি। তবে, এ বন্যায় অন্তত আট হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয় পানিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজঘাটে সুবর্ণরেখা নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিশেষ ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে বলেছে, বালাসোর জেলার ১৪১টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ১১ হাজার ৬৩২ জন বন্যার্ত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার ৫১টি বিনামূল্যের রান্নাঘর খুলেছে এবং সরিয়ে নেওয়া লোকদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী ময়ুরভঞ্জ জেলার ১০১টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করায় অন্তত এক হাজার ৬০৩ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেওনঝার এবং সুন্দরগড় জেলাতেও বন্যার পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
হাতি মেরে খরাপীড়িতদের খাওয়াবে জিম্বাবুয়ে