প্রচণ্ড গতিতে ধেয়ে আসা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় বা টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া ও কাগোশিমা প্রশাসনিক অঞ্চল। শনিবার ঝড়ের আঘাতে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ও ভবন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জাপানে তাণ্ডব চালানোর পর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন পূর্ব চীনের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যার প্রভাবে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে ব্যাপক বিমান ও নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
হংকংয়ের জাতীয় প্রাণী চাইনিজ হোয়াইট ডলফিনের নামানুসারে এই টাইফুনের নামকরণ করা হয়েছে। এশিয়াজুড়ে চলমান চরম তাপদাহ ও তীব্র গরমের মধ্যেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানল।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ডলফিন। সে সময় বাতাসের ধারাবাহিক গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
ঝড়ের প্রভাবে ওকিনাওয়া ও কাগোশিমায় পাঁচজন বয়স্ক ব্যক্তি বাতাসের তোড়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া কাগোশিমা জেলায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ভবন এবং ওকিনাওয়ায় আরও ১২ হাজারের বেশি ভবন বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছে। ঝড়ের কারণে এএনএ ও জাপান এয়ারলাইন্স ওকিনাওয়াগামী ও ওকিনাওয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
চীনের প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা: রোববার গভীর রাত থেকে সোমবরের ভোরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র।
মেটেরোলজিক্যাল সেন্টারের মতে, ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝুশান শহর থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুডিং শহরের মাঝামাঝি কোনো অঞ্চলে ডলফিন ল্যান্ডফল বা স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন সরকার ৩ নম্বর লেভেলের জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং কমলা সতর্কসংকেত ঘোষণা করেছে। ঝেজিয়াং প্রদেশ তাদের উপকূলীয় সতর্কতা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে।
ঝড়ের প্রভাবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সাংহাইসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রবিবারের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং বন্দরগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিংবো শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তাইওয়ান প্রণালী নিয়ে নতুন উত্তেজনা: টাইফুন ডলফিনের কারণে তাইওয়ানেও প্রায় ৭৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও শনিবার পর্যন্ত কাউকে স্থানান্তর বা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এদিকে টাইফুনের অজুহাতে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে চীনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং। চীনের এই পদক্ষেপকে হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ। তাইপে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের এমন নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা আরোপ করার কোনো আইনি অধিকার নেই।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স-আল জাজিরা