হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বহুল চর্চিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দায়িত্বশীল বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত বিষয়টি প্রধান এজেন্ডা হিসেবে উঠে এসেছে।
বৈঠকে শি জিনপিং স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, মানবকল্যাণে এআই ব্যবস্থার নিরাপদ বিকাশ এবং এটি যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে তা নিশ্চিত করার যৌথ সক্ষমতা ও দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশেরই রয়েছে।

তবে বিশ্বব্যাপী এই প্রযুক্তির ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে নীতিগত সহমতের কথা বলা হলেও কোন নির্দিষ্ট নিয়ম বা সুরক্ষা কৌশল প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি।
রাষ্ট্রীয় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও উভয় পক্ষ এআই সম্পর্কিত কোনো যৌথ চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়নি।
বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ উল্লেখ করেন যে সুপার ইন্টেলিজেন্স বা এআই শাসন ব্যবস্থার বর্তমান স্থিতাবস্থাই বজায় রাখা ভালো এবং মার্কিন বিচার বিভাগীয় রক্ষাকবচই এর জন্য যথেষ্ট।

অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও এর সম্ভাব্য মানবসভ্যতার হুমকির বিষয়ে প্রখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদের আহ্বানে ডব্লিউওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরা এআই-এর গতি কমানোর পক্ষে মতামত প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ধরনের প্রস্তাবকে 'ভীতি প্রদর্শন' বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভয় ছড়ানো বিশ্বব্যাপী এআই শাসনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে।

বৈঠকে এআই ছাড়াও দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ইরান সংকটের মতো জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে একটি সফল আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করলেও বিরোধী ডেমোক্রেটিক এবং নিজ দল রিপাবলিকান উভয় দলের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতারা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ভূমিকা ও পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি-আল জাজিরা
