গ্রিসে চলমান ভয়াবহ দাবানলের জন্য দায়ী করে ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। সেখানে বর্তমানে শতাধিক জায়গায় দাবানল জ্বলছে এবং এই সপ্তাহেই অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রী ভ্যাসিলিস কিকিলিয়াস বলেছেন, এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে মাউন্ট পার্নিথায় নতুন করে আগুন জ্বালাতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছে।
একে দেশের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগকারী দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে যা বন, সম্পত্তি এবং সর্বোপরি মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা পালাতে পারবে না, তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
গ্রীষ্মকালীন দাবানল গ্রীসে সাধারণ ঘটনা। বিজ্ঞানীরা ক্রমবর্ধমান দাবানলের তীব্রতার সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পৃক্ততা দেখতে পাচ্ছেন।
সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ওয়াইল্ড ফায়ার রিসার্চের পরিচালক স্টেফান ডোয়ের বলেছেন, গরম আবহাওয়া বা গাছপালার দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য ঘটনা আরও সহজে দাবানলে পরিণত হতে পারে।
এএফপি জানিয়েছে, পুলিশ এবং গ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ইওয়াইপি ঘটনাগুলো তদন্ত করছে।
সরকারের মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস গ্রীক পাবলিক ব্রডকাস্টার ইআরটি-কে বলেছেন, ১৪০টি দাবানল সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের মধ্যে ৭৯টি অগ্নিসংযোগের সাথে সম্পর্কিত।
এদিকে, গ্রিসজুড়ে শতাধিক দমকলকর্মী মারাত্মক দাবানলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
বন্দর শহর আলেকজান্দ্রোপলিসের কাছে শনিবার যে বিশাল আগুনের ঘটনা ঘটেছে তা ইউরোপীয় কমিশনের রেকর্ডে বৃহত্তম বলে জানিয়েছেন কমিশনার জেনেজ লেনারসিক।
আরও পড়ুন:
এথেন্সের কাছে মাউন্ট পার্নিথায়, রাজধানী সংলগ্ন একটি জঙ্গলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যা একটি জাতীয় উদ্যানকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে, উত্তর-পূর্ব গ্রিসের ইভ্রোস অঞ্চলের কাছে ১৯ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সোমবার বোয়েটিয়া অঞ্চলে আগুনে একজন রাখালও প্রাণ হারিয়েছেন।