কুরস্কে হামলার জেরে আরেক রুশ প্রদেশে জরুরি অবস্থা

কুরস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আচমকা আক্রমণের জেরে ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন রাশিয়ার বেলগোরোদ প্রদেশে বুধবার থেকে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রদেশটির ইউক্রেন সীমান্ত ঘেঁষা ক্রাসনোয়ারুঝস্কি জেলার সকল বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইউক্রেনের খারকিভ ও রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের পাশেই বেলগোরোদের অবস্থান। এরই মধ্যে, কুরস্কে অভিযান চালিয়ে সেখানকার ১২ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। খবর এএফপি’র।

বেলগোরোদের গভর্নর ভিয়াচেসলাভ গ্লাদকভ জানান, ‘প্রাদেশিক পর্যায়ে জরুরি অবস্থা চালু থাকবে। আমরা সরকারি কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমেও এ অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারির অনুরোধ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ইউক্রেনের তীব্র হামলার মুখে এই প্রদেশের পরিস্থিতি এখন ‘অত্যন্ত জটিল’। কামানের গোলার পাশাপাশি বেলগোরোদে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলাও হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি ভিডিও পোস্টে গ্লাদকভ জানান, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ক্রমাগত কামান হামলা বেলগোরোদ প্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। হামলায় বিধ্বস্ত হচ্ছে বাড়িঘর, হতাহত হচ্ছেন বেসামরিক মানুষ। সেখানকার দুইটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে, গত ৬ আগস্ট থেকে চলা এ তীব্র লড়াইয়ে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ইউক্রেনের সেনাসদস্যরা কুরস্কের ১২ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। সেখানকার ২৮টি শহর ও গ্রামের দখল নিয়েছে।

ইউক্রেনের এ অভিযানে সেখানকার প্রায় এক লাখ ২১ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। কুরস্কের প্রাদেশিক গভর্নর আলেক্সেই স্মিরনভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের হামলায় সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন বেসামরিক ব্যক্তি। আহত হয়েছেন ১২১ জন। এ ঘটনায় বেলোভস্কি জেলার ১৪ হাজার বাসিন্দার সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলের এক হাজার বর্গকিলোমিটার রুশ ভূখণ্ড দখলের দাবি করেছে ইউক্রেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রুশ ভূখণ্ড এভাবে আক্রান্ত হওয়ার কোনো নজির নেই।