পারস্য উপসাগরে উত্তাল ঢেউ আর ইরানের অবরোধ নিয়ে যখন ওয়াশিংটন মিত্রদের হন্যে হয়ে খুঁজছে, তখন জার্মানি যেন কিছুটা ‘ঠাণ্ডা পানি’ ঢেলে দিল। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষার ভার ন্যাটোর কাঁধে দেয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি এবং অদূর ভবিষ্যতে তেমন কোনো সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন না। খবর বিবিসি।
ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে ওয়াদেফুল বলেন, ন্যাটো এই দিকে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালীর দায়িত্ব নিতে পারে, এমনটা আমার মনে হয় না। যদি তেমন কিছু হতো, তবে ন্যাটোর নীতিনির্ধারক বডিগুলো অনেক আগেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করত।
তাঁর এমন মন্তব্য এমন এক সময় আসলো, যখন ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ রক্ষায় এগিয়ে না এলে ন্যাটোর কপালে খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি সদৃশ পরিস্থিতির মাঝেও জার্মানির নজর কিন্তু সেই ইউক্রেনেই। ওয়াদেফুলের মতে, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য এখনও প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইউক্রেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যত বাড়বে, রাশিয়ার ‘যুদ্ধের তহবিল’ তত বেশি ভারী হবে। কারণ জ্বালানির উচ্চমূল্য পরোক্ষভাবে মস্কোকেই লাভবান করছে।
তেলের দাম বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে নাভিশ্বাস উঠলেও রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোর বিরোধী জার্মানি। ওয়াদেফুল মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা সহজ করা হবে একটি ভুল পদক্ষেপ। বরং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটকে ব্যবহার করে রাশিয়া যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকেই ইউরোপের নজর দেওয়া উচিত।
জার্মানির এই অবস্থান থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার- ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালীতে মিত্রদের যে বিশাল সামরিক বহর আশা করছিল, বার্লিন অন্তত সেখানে খুব একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের চেয়ে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনই জার্মানির কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ।