ভ্যাটিকানে সোমবার এক ঐতিহাসিক ও প্রতীকী সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও এবং চার্চ অব ইংল্যান্ডের নবনিযুক্ত আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবেরি সারাহ মুলালি। দীর্ঘকাল ধরে বিভক্ত এই দুই খ্রিস্টান ধর্মীয় ধারার শীর্ষ নেতাদের এই প্রথম সাক্ষাৎটি পারস্পরিক উপহার বিনিময় এবং যৌথ প্রার্থনার মাধ্যমে এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। খবর রয়টার্সের।
ভ্যাটিকানের অলঙ্কৃত অ্যাপোস্টোলিক প্যালেসে পোপ লিও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সারাহ মুলালিকে। এই সাক্ষাৎটি নানা কারণেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সারাহ মুলালি বিশ্বের ৮ কোটি ৫০ লক্ষ অ্যাংলিকান খ্রিস্টানদের প্রথম নারী আধ্যাত্মিক নেতা, অন্যদিকে পোপ লিও হলেন বিশ্বের ১৪০ কোটি ক্যাথলিকদের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত প্রধান। ১৫৩৪ সালে রাজা অষ্টম হেনরির বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যে তিক্ততার মধ্য দিয়ে এই দুই গির্জা একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল, প্রায় ৫০০ বছর পর তাদের এই হৃদ্যতাপূর্ণ অবস্থান খ্রিস্টান বিশ্বের ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে আর্চবিশপ মুলালি পোপ লিওর সাম্প্রতিক জোরালো ও সাহসী বাগ্মিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পোপ তাঁর আফ্রিকা সফরে যুদ্ধ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি। উল্লেখ্য, পোপের এই বক্তব্যের কারণে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোপানলে পড়েছিলেন। মুলালি বলেন, বিশ্বের এই মুহূর্তে এই বার্তার খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি পোপের এই সাহসী অবস্থানের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
পোপ লিও স্বীকার করেন, ক্যাথলিক ও অ্যাংলিকান চার্চের দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি আক্ষেপ করে জানান, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে কিছু নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা ঐক্যের পথে অন্তরায়। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সমস্যার কথা উল্লেখ করেননি, তবে নারী যাজক নিয়োগ বা সমকামী বিবাহের মতো বিষয়গুলো দুই গির্জার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পোপ জোর দিয়ে বলেন, কোনো চ্যালেঞ্জই যেন খ্রিস্টের বাণী প্রচারে দুই চার্চের যৌথ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত না করে।
গত মার্চ মাসে আর্চবিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মুলালি এই সাক্ষাৎকে তাঁর জন্য এক বড় সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে গত অক্টোবরে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ভ্যাটিকান সফর করেছিলেন এবং পোপের সাথে যৌথ প্রার্থনায় অংশ নিয়েছিলেন, যা রাজা অষ্টম হেনরির পর ছিল প্রথম কোনো ঘটনা।
সাক্ষাৎ শেষে পোপ লিও এবং আর্চবিশপ মুলালি ১৭শ শতাব্দীর একটি চ্যাপেলে একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। সারাহ মুলালি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রার্থনা এবং সেবার ক্ষেত্রে তিনি পোপের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও দূরত্বের ইতিহাস পেছনে ফেলে ভ্যাটিকান ও ক্যান্টারবেরির মধ্যে এক নতুন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।