ইউক্রেনের চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ নতুন করে বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। এবার পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে দু’পক্ষই একে অপরের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও কৌশলগত পথগুলো ধ্বংসের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রোববার পোল্যান্ড এবং ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ইউক্রেনের দরো হুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাত্র ৮০০ মিটার (আধা মাইল) দূরে একটি ট্রাকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
পোলিশ সীমান্ত রক্ষীরা জানান, হামলার পরপরই সীমান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় চালু হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পশ্চিম ইউক্রেনে ইউরোপ থেকে আসা সামরিক চালান সহজতর করার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া তার পশ্চিম মিত্রদের সাথে ইউক্রেনের সীমান্ত ক্রসিংগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করেছে। ইউক্রেন মূলত পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভা সীমান্ত দিয়ে আসা বাণিজ্য এবং পশ্চিমা অস্ত্রের চালানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠককালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতায় সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, পুতিন মোদীকে ইউক্রেনের ‘মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি’ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। এছাড়া রাশিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অক্টোবর মাসে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি মস্কো।
এর আগে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোখায়েভ ও ভারতের মোদী পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও মস্কো তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়ার স্পষ্ট কথা, ইউক্রেনকে শিল্পোন্নত পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, যা কিয়েভ কখনো মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে থাকা জ্বালানি ট্রাকে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার তাতারস্তানের নিজনেকামস্ক শহরে অন্তত দুইজনের মৃত্যু এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিয়েভ পাশাপাশি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে আরেকটি শোধনাগারে সফল ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
ন্যাটো ভূখণ্ডের এত কাছাকাছি সীমান্ত সংযোগে হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে, যার ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স