রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এবার এক বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ধাক্কার মুখোমুখি হলো ভারতীয় মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে অবস্থিত ভারতের বিখ্যাত ‘কুসুম গ্রুপ’-এর একটি বিশালাকার ওষুধ প্রস্তুতকারক কারখানায় রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোনের এক ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক হামলা সংঘটিত হয়েছে।
সুমি অঞ্চলের আকাশে একাধিক ড্রোন থেকে চালানো এই হামলায় কারখানার মূল অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই মর্মান্তিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বহু কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সুমির আকাশে এখন শুধু ক্ষ ক্ষয়ক্ষতি ও বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দৃশ্যমান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।
১৯৯৪ সালে রাজীব গুপ্ত নামের এক ভারতীয় উদ্যোক্তার হাত ধরে ওষুধ রপ্তানিকারক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই কুসুম গ্রুপ। ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে তারা নিজেদের সুবিশাল কারখানা গড়ে তোলে এবং গত কয়েক বছর ধরে যুদ্ধ সত্ত্বেও সেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছিল।
ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তানসহ প্রায় নয়টি দেশে ৫০টিরও বেশি জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ করে আসা এই ভারতীয় শিকড়ভিত্তিক ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানের সুমির কারখানাটি এখন এক লণ্ডভণ্ড কঙ্কাল। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্তত চার শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, রাশিয়ানরা কিয়েভের ব্রিজ, সাধারণ ওষুধের গুদাম এবং যোগাযোগ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে।
প্রতিপক্ষ রাশিয়ার দ্রুতগতির জেট-চালিত শাহেদ ড্রোনের তাণ্ডব মোকাবিলা করতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই এই ওষুধ কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটল। এর পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও ২৫০ কিলোমিটার পাল্লার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের এই উত্তাপ এখন শুধু সামরিক সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানবিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকেও চরম হুমকিতে ফেলে দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি