দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত- ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ার ঐতিহাসিক সেন্ট পিটার্সবার্গের রাজকীয় কনস্ট্যান্টাইন প্যালেসে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
চলতি সংকট নিরসনে ওয়াশিংটনের নতুন সব পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে বুধবার এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব মুখোমুখি বসেন। উইটকফের সাথে পুতিনের এটি নবমবারের মতো সরাসরি বৈঠক।
আলোচনার শুরুতেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এক সুসংবাদ ও ইতিবাচক বার্তা দেয়া হয়, চুক্তি ও ভাড়াটে সেনা হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে বন্দি থাকা ৭৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠায় ক্রেমলিন। উইটকফের সাথে একই বিমানে তাঁর দেশে ফেরার কথা।
এর আগে নরওয়ের অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতৃত্ব এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে উইটকফ এক 'গঠনমূলক' বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সার্বিক ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন যে, এবার ইউক্রেনকে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে দাঁড়াতে হবে, নয়তো বড় মাশুল গুনতে হবে।
এদিকে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে সম্প্রতি কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার সাথে ডিজেল রপ্তানি চুক্তি করেন ট্রাম্প। এর পরপরই ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত 'স্টারশিল্ড' স্যাটেলাইট সেবা ও রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ তোলে ইউক্রেন।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, স্টারলিংক বা সামরিক তথ্য সহায়তা বন্ধের খবর সত্য নয় এবং অসলোর আলোচনার পর এসব সমস্যার সমাধান হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের বৈঠকে পুতিনের সাথে তাঁর অর্থনৈতিক বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ ও উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, কিয়েভ থেকে আসা নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলবেন উইটকফ।
পুতিনের মূল লক্ষ্য- ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং কিয়েভ যেন কখনোই ন্যাটোতে যোগ না দেয়। এই শক্ত অবস্থানের মুখে দাঁড়িয়ে স্টিভ উইটকফের উদ্দেশ্য হলো পুতিন, ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ সুগম করা, যা দীর্ঘপ্রতীক্সিত এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স