সার্বিয়ায় গত বছর দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের ওপর নজিরবিহীন শারীরিক নির্যাতন ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে ৯ জন সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১ জন সাবেক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সার্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরে এটিকে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর দেশটির নোভি সাদক শহরের একটি সংস্কার করা রেলওয়ে স্টেশনের কংক্রিটের ছাদ ধসে ১৬ জন নিরপরাধ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য অপেক্ষায় থাকা দেশটিতে তীব্র দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৫ ও ২০২৬ সালজুড়ে চলা এই গণআন্দোলনের মুখে অবশেষে গত ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে তৎকালীন পপুলিস্ট সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) চরম ভরাডুবি ঘটে এবং ক্ষমতাচ্যুত হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের বিশ্বস্ত অনুসারীরা। নেতৃত্বহীন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে জয়লাভ করে।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রেফতারএই কর্মকর্তারা পুলিশের একটি এলিট বিশেষ ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তারা ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট রাতে মধ্য বেলগ্রেডের সরকারি চত্বরের গ্যারেজে একাধিক আটককৃত ব্যক্তিকে চরম শারীরিক নির্যাতন করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য আদায়, ভয় প্রদর্শন এবং অবৈধভাবে শাস্তির উদ্দেশ্যে ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছিলেন।
মন্ত্রণালয় থেকে শুধু গ্রেফতার কর্মকর্তাদের নামের প্রথম অক্ষর প্রকাশ করা হলেও, এটিকেই গত দুই বছরের গণআন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রথম বড় কোনো আইনগত গ্রেফতারি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
উলেখ্য, আন্দোলন চলাকালে গণজমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে দেশটির পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেলসহ বিভিন্ন আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থী ও সক্রিয় অ্যাক্টিভিস্টরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও মানসিক ট্রমা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিলেন।
সার্বিয়ার তরুণ প্রজন্ম, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো শুরু থেকেই ভুচিচ ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা, গণমাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণ, সংগঠিত অপরাধ চক্রের সাথে যোগসাজশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছিল, যদিও ভুচিচ ও তাঁর মিত্ররা এসব দাবি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছিলেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স