যুক্তরাজ্যের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় টিসাইডের সাউথ ব্যাংক এলাকায় এ৬৬ (A66) মহাসড়কে এক রোমাঞ্চকর কিন্তু ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। একটি ‘সন্দেহভাজন’ গাড়ির পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা পুলিশের সেই ‘চিহ্নিত’ গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার ভয়াবহতায় উভয় গাড়ির সব আরোহীই দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান।
ক্লিভল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটে মিডলসব্রোর কাছে টিসাইডের অন্যতম প্রধান ব্যস্ত সড়কে একটি সন্দেহভাজন ভক্সওয়াগন পাসাট কারকে চিহ্নিত করে পুলিশ। পুলিশ গাড়িটিকে থামানোর জন্য তাড়া করলে সেটি দ্রুত গতিতে ডুয়াল-ক্যারিজওয়ে বা দ্বিমুখী রাস্তার ভুল লেনে ঢুকে পড়ে উল্টো দিক থেকে চলতে শুরু করে।

উল্টো লেনে মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষে পুলিশের গাড়ি এবং ধাওয়া করা গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। উত্তর-পূর্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দ্রুততম সময়ে ১৪টি জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠালেও কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ক্লিভল্যান্ড পুলিশের চিফ কনস্টেবল ভিক্টোরিয়া ফুলার গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, সমাজ সুরক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ অফিসারসহ কাউকেই যেন এভাবে সকালে কাজে বেরিয়ে প্রাণ হারাতে না হয়—তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য ছিল। এই ঘটনায় পুরো পুলিশ পরিবারে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো টিকটক ট্রেন্ড বা সোশ্যাল মিডিয়া ‘লাইক’ পাওয়ার প্রবণতা ছিল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অতি সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও প্রায় একই ধরনের দুটি উল্টো লেনে গাড়ি চালানোর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যাতে ৫ জন মারা যান। আয়ারল্যান্ডের পুলিশ প্রধান সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, কিছু বিভ্রান্ত তরুণ কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার ‘লাইক’ ও ভিউ কুড়ানোর উদ্দেশ্যে হাইওয়েতে উল্টো লেনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালাচ্ছে!

এই ধরনের বিপজ্জনক ও অনৈতিক ড্রাইভিংয়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানোর বিষয়ে টিকটক কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে আইরিশ পার্লামেন্টারি কমিটি ও দেশটির মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যুক্তরাজ্যের ঘটনাটিতেও সেই ধরনের কোনো স্টান্টের সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ব্রিটেনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট অফিস ফর পুলিশ কন্ডাক্ট।
দুর্ঘটনার পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা দিয়ে ঘেরা মহাসড়কটির নরম্যানবি রোড থেকে চার্চ লেনের মধ্যকার অংশটি সারাদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার দ্রুত তদন্ত চলছে। স্থানীয় রেডকারের সংসদ সদস্য অ্যানা টার্লি এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে শোক জানিয়েছেন এবং উদ্ধারকারীদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
