চলমান লড়াই-সংঘাতে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে পরাজিত করার পর গাজার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত বলেন, একবার হামাস পরাজিত হয়ে গেলে ইসরাইল গাজাবাসীর জন্য তাদের ‘সব দায়িত্বের ইতি টানবে’। গাজায় তাদের সামরিক অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হচ্ছে, ভূখণ্ডটির সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন করা। খবর বিবিসি’র।
হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আগে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় জ্বালানি চাহিদার বেশিরভাগ সরবরাহ করেছে এবং ভূখণ্ডটিতে আমদানি দেখভাল করে আসছিল। গাজায় অবিরাম বিমান হামলা এবং মিশরের সঙ্গে সীমান্তে সাহায্য বন্ধ থাকার মধ্যেই ইসরাইল ভূখণ্ডটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পরিকল্পনা নিয়ে বিবৃতি দিল।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের হামলায় কমপক্ষে ১৪ শ’ জন নিহত এবং ২০৩ জন জিম্মি হওয়ার পর ইসরায়েল এর জবাবে গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে অবিরাম বিমান হামলা চলছে। আর এখন গাজায় স্থল অভিযান চালানোর পথেও রয়েছে ইসরায়েল।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্যালান্ত পার্লামেন্টারি কমিটিকে বলেছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ের লক্ষ্য হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করা। এরপর হামাসের প্রতিরোধ স্থলগুলো ধ্বংস করা হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে গাজার সাধারণ জনগণের জন্য ইসরাইলের দায়িত্ব শেষ করে ইসরাইলি নাগরিকদের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
যদিও ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা থেকে সরে এসেছে তারপরও জাতিসংঘ পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ এই ভূখণ্ডকে অধিকৃত ভূমি হিসাবে বিবেচনা করে। ফলে গাজার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্বও ইসরাইলের বলেই বিবেচনা করা হয়।
ইসরাইল এর আগে গাজাবাসীকে কাজের জন্য সীমান্ত পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। হামাসের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে তারা গাজা ভূখণ্ডে আমদানিও তদারক করেছে।
গত ৭ অক্টোবরে ইসরাইলে ঢুকে হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় বিদ্যুৎ ও পানির পাশাপাশি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে। জাতিসংঘ সেখানকার পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর বলে আখ্যা দিয়েছে।