গাজা উপত্যকায় সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেখানে স্থিতিশীলতার জন্য ১৯৬৭ সালের আগে ফিলিস্তিনের যে সীমান্ত ছিলো, সেটি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেন, সবার আগে ইসরাইলকে হামলা বন্ধ করতে হবে। খবর সৌদি গেজেটের।
শুক্রবার, গলফ কো-অপারেশন কাউন্সিল ও আসিয়ানের এক যৌথ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। যুবরাজ সালমান বলেন, গাজা আজ যা প্রত্যক্ষ করছে সেটা খুবই বেদনাদায়ক। এই হিংসায় নিরপরাধ সাধারণ সব নাগরিকদের মূল্য দিতে হচ্ছে। তাই সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
১৯৪৮ সালে মিশর সুয়েজ খালকে তাদের জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করলে হামলা চালায় ইসরাইল। সেই সময় ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স। মিশরের বেশ কয়েকটি জায়গাও দখল করে নেয় ইসরাইল। তারপর আন্তর্জাতিক চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা।
এরপর ১৯৬৭ সালে আবারও আরব-ইসরাইল যুদ্ধ বাঁধে। গাজা, সিনাই, পশ্চিম তীরের মতো অনেকগুলো জায়গা দখল করে নেয় ইসরাইল। তখন থেকেই এসব অঞ্চলে ইহুদি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হতে থাকে। গাজার অধিকার আদায়ে জন্ম নেয় হামাসের মতো সশস্ত্র সংগঠন।
আর তাই, ইসরাইল-হামাসের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের বিরোধ অবসানে ১৯৬৭ সালের আগে যেটা ফিলিস্তিন সীমান্ত ছিল, সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া দিলেন সৌদি প্রিন্স। ইসরাইলের সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপনে এই বিশেষ পদক্ষেপ জরুরি বলেও মনে করেন সালমান।
এদিকে শুক্রবার মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এ সময় তিনি, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়টি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি গাজার ওপর অবরোধ তুলে নেয়া এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চিকিৎসা ও ত্রাণের দাবি জানান।
ট্রুডোর অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা গাজা ও ইসরাইলের পরিস্থিতি ও সংঘাতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা গাজা সংঘাতের মানবিক প্রভাব সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষের বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।
৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এর পর ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত চার হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন হাজার মানুষ। অবরুদ্ধ গাজায় নির্বিচারে হামলা করছে ইসরাইল। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রও হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
দু’সপ্তাহে ২২ সাংবাদিকের প্রাণ নিলো ইসরাইল