আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও স্পেনের স্বীকৃতির ঘোষণার পর দেশগুলো থেকে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের অবিলম্বে ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ‘আজকের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিদের এবং বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পাঠায়: সন্ত্রাসবাদ মূল্য দেয়।’
তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি গাজায় বন্দী ইসরাইলের জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং ‘হামাস ও ইরানের জিহাদিদের পুরস্কৃত করে’ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা তার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে এবং এর নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে তাদের সামনে ইসরাইল চুপ করে থাকবে না।’
এমন একসময় এই ঘোষণা এলো যখন ইসরাইলি বাহিনী গাজার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তে হামলা চালিয়েছে এবং সাহায্যের প্রবাহকে তীব্রভাবে সীমিত করে অবরুদ্ধ গাজা ছিটমহলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এদিকে, দেশগুলো থেকে নিজেদের দূত প্রত্যাহারের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ের ইসরাইলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের একটি ‘তিরস্কারমূলক কথোপকথনে’ তলব করছে তেল আবিব। হাজির হয়ে তাদের ৭ অক্টোবর ইসরাইলি নারী সৈন্যদের অপহরণের ভিডিওটি দেখানো হবে বলে জানায় ইসরাইলি পররাষ্ট্র দপ্তর ।
এদিকে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এ স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং অন্যান্য দেশকে তা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফায় এক বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ‘ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে’ প্রতিষ্ঠা করবে এবং ইসরাইলের সাথে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।
ফিলিস্তিনিদের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব হুসেইন আল-শেখ এ খবরকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ‘এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং শান্তির পথ’।