দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলার জেরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা- ইউএনআরডব্লিউএ।
মঙ্গলবার ইউএনআরডব্লিউএ এক্সে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি বলছে, ত্রাণের অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলে হয়েছে, গাজায় ইউএনআরডব্লিউএ'র ২৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটি চালু রয়েছে। অন্যদিকে গাজার রাফাহ এবং কেরেম শালোম ক্রসিংয়ে ইসরাইলি প্রতিবন্ধকতার কারণে গেলো ১০ দিনে কোনো চিকিৎসা সরবরাহ পৌঁছায়নি।
এদিকে ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকে বহু ফিলিস্তিনি রাফাহ শহর ছেড়ে পালিয়েছে। এর ফলে খান ইউনিসে ইউএনআরডব্লিউএ'র আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
রাফাহজুড়ে আক্রমণ তীব্র হওয়ার পর অসংখ্য রোগী ও চিকিৎসাকর্মীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে জায়নবাদীরা। অনেক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার ছুটতে হচ্ছে অন্যত্র।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।
গেলো সাত মাসের লাগাতার হামলার মুখে গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে আশ্রয় নেয় লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু সেখানেও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও। তারপরও আগ্রাসী নেতানিয়াহু সরকার।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহবান জানিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, শিগগিরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়বে গাজার শিশু ও নারীরা।
ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ ফিলিস্তিনি হতাহত