ইসরাইলের চার জিম্মি মুক্তির অভিযানে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত

মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ ও নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে চার জিম্মি মুক্তির নামে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শনিবারের এ হামলায় অন্তত ২১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের এক চিকিৎসক জানান, মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতাল যেন এক দুঃস্বপ্ন। এখানে রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আল-আকসা ও নাসের হাসপাতালে হাজারো গুরুতর আহত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

জনাকীর্ণ হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের আহাজারি শোনা যাচ্ছে এবং আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু বলেও জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক। 

হামলার পর শরণার্থী শিবিরজুড়ে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সেখানে প্রতি মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সবাই মরে গেছে। তারা তৃতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এখন তারা কোথায় আশ্রয় নেবেন, জানেন না।

ইসরাইলি হামলায় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের ধ্বংসস্তুপ। ছবি: রয়টার্স।

একযোগে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে চালানো এ হামলার হামলার জেরে গাজার লাখো উদ্বাস্তুর মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নুসেইরাত শিবিরে হামলা চালিয়ে চার জিম্মিকে মুক্ত করেছে তারা। অভিযান চলাকালে তাদের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

এদিকে, হামাস জানিয়েছে, নুসেইরাতে চালানো এ অভিযানে আরও জিম্মিদের হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। তবে মৃতের সংখ্যা এখনও জানায়নি তারা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-আকসা হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক আহত মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু হাসপাতালে খাবার ও ওষুধের অভাব রয়েছে। এছাড়া জ্বালানির অভাবে হাসপাতালের প্রধান জেনারেটরও কাজ করছে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, রাস্তায় এখনো অনেক মরদেহ পড়ে আছে। আহত অনেক মানুষও রাস্তায় পড়ে আছেন।

গাজায় গত ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৩৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও প্রায় ৮৪ হাজার জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।