মধ্য গাজায় অভিযান চালিয়ে চার ইসরাইলি জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার দাবি করেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শনিবার এক বিবৃতিতে নুসাইরাতের দুইটি আলাদা স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে আইডিএফ জানায়।
বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, ইসরাইলি পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের যৌথ দিবাগত অভিযানে নুসাইরাতের দুইটি আলাদা স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া চারজন জিম্মি হলেন নোয়া আরগামানি (২৫), আলমগ মেইর জান (২১), আন্দ্রেই কোজলভ (২৭) ও শলোমি জিভ (৪০)। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হামলা চালিয়ে হামাস সদস্যরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেছে ইসরাইল।
মুক্ত এই চার জিম্মিকে উদ্ধারের পর চীনা বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিক নোয়া আরগামানির বাবার সাথে পুনর্মিলনের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরাইলের চ্যানেল-১২। এর আগে, আরগামানিকে যখন হামাসের যোদ্ধারা ধরে নিয়ে যান। তখন তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এতে দেখা গিয়েছিল ওই তরুণী চিৎকার করে বলছে, ‘আমাকে হত্যা করবেন না।’

উদ্ধার করা অপর জিম্মিদের মধ্যে মধ্যে রাশিয়ান আন্দ্রেই কোজলভ ২০২২ সালে ইসরাইলে চলে এসেছিলেন। তিনি ওই ফেস্টিভ্যালের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করছিলেন।
মেইর জান পালানোর চেষ্টা করে ধরা পড়েন। শলোমি জিভও ফেস্টিভ্যালের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে।
তাদের শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো বলে জানিয়েছে আইডিএফ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে তেল-হাশোমার মেডিকেল সেন্টারের সেবাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি ওই অভিযানে শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। আল-আকসা হাসপাতালের কর্মীরা আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। হতাহত শিশুদের ছবি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে একটি সংগীত উৎসবে হামলা চালিয়ে ২২১ জন ইসরাইলিকে জিম্মি করে নিয়ে যায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তাদের মধ্যে ৪০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এখনও হামাসের হাতে জিম্মি রয়েছে ১১৬ জন।
আইসিসি'র বিরুদ্ধে ৯ বছর ধরে গোপন যুদ্ধ চালাচ্ছে ইসরাইল