লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বিস্ফোরিত হওয়া পেজার তাদের তৈরি করা নয় বলে দাবি করেছে তাইওয়ান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলো। তাদের ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহারের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোম্পানি বিএসি পেজারগুলো বানিয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট হসু চিং কোয়াং বলেছেন, ‘যন্ত্রগুলো আমরা তৈরি করিনি। ওগুলোতে কেবল আমাদের ব্র্যান্ডের নাম ছিল।’ ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা বৃহদাকার না হলেও দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠান। গতকালের ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’
মঙ্গলবার লেবাননজুড়ে একযোগে প্রায় তিন হাজার পেজার বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত ৯ জন নিহত ও তিন হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
বিধ্বস্ত পেজার গুলোর কাঠামো ও এতে থাকা স্টিকার যাচাই করে এগুলোর সঙ্গে গোল্ড অ্যাপোলোর পেজারের সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছে রয়টার্স।
কিন্তু, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এআর-৯২৪ মডেলের পেজারটি উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল বিএসি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। বিএসিকে গোল্ড অ্যাপোলোর ব্র্যান্ড ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আর উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ বিএসসি নিয়ন্ত্রণ করতো।
অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানটি হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অবস্থিত বললেও পরে এর অবস্থান প্রকাশে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট কোয়াং। বিএসি থেকে অর্থ পেতে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ইসরাইলি বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে যোগাযোগের জন্য পেজার ব্যবহার করতো হিজবুল্লাহর সদস্যরা। পেজার যেহেতু কেবল ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করতে পারে, তাই এটির অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত দুরূহ।
পেজার বিস্ফোরণের ঘটনার পর তাইওয়ানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গোল্ড অ্যাপোলোতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়েছিলেন। তাইওয়ান থেকে লেবাননে সরাসরি পেজার রপ্তানির কোনও তথ্য নেই বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় গোল্ড অ্যাপোলো নিজেও ভুক্তভোগী বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট কোয়াংয়ের। বিএসির কাছে থাকা লাইসেন্সের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকলনা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।