ইরানের রাজধানী তেহরান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজ বুধবার রহস্যজনক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও তেহরানের ঘটনাটিকে ইরান সরকার নিছক অগ্নিকাণ্ড বলে দাবি করেছে, তবে শিরাজে পাহাড়ী এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণটি নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে।
তেহরান প্রদেশের পারান্দ নামক একটি আবাসিক এলাকার কাছে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এটি কোনো বড় দুর্ঘটনা বা সামরিক হামলা নয়।
তাদের দাবি অনুযায়ী, নদী তীরবর্তী এলাকার শুকিয়ে যাওয়া নলখাগড়ায় একদল দুষ্কৃতকারী আগুন লাগিয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজের উপকণ্ঠে একটি পাহাড়ী এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে এই বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যাকাউন্টগুলো এই বিস্ফোরণের অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শিরাজের এই পাহাড়ি অঞ্চলটি ইরানের মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার গোপন আস্তানা হিসেবে পরিচিত।
ফলে এই বিস্ফোরণটি কোনো কৌশলগত নাশকতামূলক কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি মাসেই এটি ইরানে এ ধরনের ১৩তম রহস্যময় বিস্ফোরণের ঘটনা, যা নাশকতার জল্পনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো শিরাজের ঘটনা নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কোনো ছবি বা হতাহতের খবর এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এমন ঘনঘন বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের মতে, এটি ইরানের স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ওপর কোনো গোপন অভিযানের অংশ হতে পারে।
পুরো বিষয়টি এখনও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকলেও সামাজিক মাধ্যমের গুজব এবং সামরিক সিগন্যালিংয়ের কারণে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, ওয়ান নিউজ