শত্রুর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান, পেজেশকিয়ানের হুঙ্কার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর, উদ্ভূত জাতীয় সংকটের মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথমবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একটি ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

ভাষণের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের শাসনব্যবস্থায় কোনো শূন্যতা এড়াতে ইতিমধ্যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ’ তাদের কাজ শুরু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, এই তিন সদস্যের পরিষদে খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজে, বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি এজেহেই এবং আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।


প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে শত্রুর ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি শত্রুপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি তাদের ‘হতাশ’ করবে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, খামেনির মৃত্যুর পর ইরান রক্ষণাত্মক অবস্থানের বদলে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণের আধঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ হামলা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সংকল্পকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, খামেনির মৃত্যুতে যে গভীর শোক তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের মানুষের মনে অমলিন থাকবে।

 
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই ভাষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাধারণ মানুষ এবং সামরিক বাহিনীকে আশ্বস্ত করা যে, নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার রাশ এখনো শক্ত হাতেই রয়েছে। একইসাথে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন, ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।