ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘পেশিশক্তির রাজনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রোববার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে এক ফোনালাপে তাঁর দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাঁর মতে, একজন সার্বভৌম নেতাকে এভাবে ‘প্রকাশ্য হত্যা’ এবং জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের উসকানি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সংকটের সমাধানে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে; অবিলম্বে সকল সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করা, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা ও সংলাপের টেবিলে ফিরে আসা, একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
শনিবার থেকেই চীন এই হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। বেইজিংয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক সম্পাদকীয়তে ওয়াশিংটনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছে। এতে বলা হয়েছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর এই ধরনের নির্লজ্জ আক্রমণ সরাসরি ‘আধিপত্যবাদ’ এবং ‘পেশিশক্তির রাজনীতির’ বহিঃপ্রকাশ। ওয়াশিংটনের এই সামরিক জবরদস্তি জাতিসংঘ সনদের মূল লক্ষ্য ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়মগুলো থেকে বিচ্যুত।
চীন সতর্ক করে বলেছে যে, এ ধরনের একতরফা হামলা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকেই জটিল করবে না, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে। তাই সব পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
খামেনি হত্যাকাণ্ড নিষ্ঠুর ও অমানবিক, তেহরানকে পুতিনের শোকবার্তা